বৃহস্পতিবার , ০১ মার্চ ২০১৮

পাকিস্তানে পৃথক দুই সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন হলেন আধাসামরিক বাহিনী ফ্রন্টিয়ার কোরের (এফসি) সৈন্য ও দুইজন পুলিশ সদস্য।

ডন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বেলুচিস্তানে এ দুই হামলার ঘটনা ঘটে। 

বেলুচিস্তানের একটি চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলায় চার সৈন্য প্রাণ হারান। অপরদিকে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে চালানো বন্দুক হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন।

ডন অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এফসি বাহিনীর একটি তল্লাশি চৌকিতে আত্মঘাতী হামলায় ওই চার সৈন্য প্রাণ হারান। ঘটনাস্থল বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পার্বত্য এলাকায়। এ হামলার ঘটনায় আরো সাত জন আহত হন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের নজরে রাখতে নোসাহারের কাছে একটি তল্লাশি চৌকি বসায় এফসি। হামলাকারী বোমারু ওই তল্লাশি চৌকির ভিতরে প্রবেশ করে সৈন্যদের কাছাকাছি গিয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে নিকটবর্তী তল্লাশি চৌকিতে মোতায়েন এফসি সেনারা ও প্রাদেশিক লেভিস বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে হতাহতদের হাসপাতালে পাঠান।

কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

অপর ঘটনায় পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে চালানো বন্দুক হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। ওই কর্মকর্তা অক্ষত অবস্থায় হামলা থেকে রক্ষা পান।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছন, বেলুচিস্তান হাইকোর্ট থেকে বাড়িতে ফেরার পথে কোয়েটার সামুংলি সড়কে ডিএসপি হামিদ উল্লাহ দাস্তির গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে বন্দুকধারীরা।

এতে ডিএসপি দাস্তিকে পাহারারত দুই পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুই বন্দুকধারী দুই দিক থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলেও দাস্তি ও গাড়িচালক রক্ষা পান। 

পাঁচ বছর আগে একই শহরে বন্দুকধারীরা দাস্তির ছোট ভাই পুলিশ পরিদর্শক আমির মুহম্মদ দাস্তিকে গুলি করে হত্যা করেছিল।           

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণের পর দুই বন্দুকধারী দুটি মোটরসাইকেল যোগে ভিন্ন পথে পালিয়ে যান।

পাকিস্তান তালেবান নামে পরিচিত নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

 সারাবিশ্ব থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ