মঙ্গলবার , ২০ এপ্রিল ২০২১ |

পৌর মেয়রের বাসভবনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৩

অনলাইন ডেস্ক   বুধবার , ০৭ এপ্রিল ২০২১

মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুস সালামের বাসভবনে রহস্যজনক বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন চার কাউন্সিলরসহ অন্তত ১৩ জন। তবে পৌর মেয়র অক্ষত রয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় পৌর মেয়রের বাসভবনে ওই বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে।

আহত চার কাউন্সিলর হলেন মো. সোহেল, মো. আওলাদ, দীন ইসলাম, রহিম বাদশা।  অপর আহতরা হলেন মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম, মো. মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না, কালু, মো. ইদ্রিস আলী, মঈনউদ্দিন ও মো. তাজুল।  আহতদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরজনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মিরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর রহিম বাদশা সাংবাদিকদের জানান, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে ওই বাসভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে মেয়রের সঙ্গে আলাপচারিতা করছিলাম পৌর কাউন্সিলরসহ অন্যান্যরা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহুর্তে কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাঁচ চুরমার হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চার কাউন্সিলরসহ অন্তত ১৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, কীভাবে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে তা বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে রয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা বলতে পারবেন কীভাবে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রতিনিধি জানান,  বিস্ফোরণে দগ্ধ ১২ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মেয়রের স্ত্রী কাননের (৩৭) অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাধীন দগ্ধ পান্না হালদার (৫০) জানান, তিনি পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার সেকশনে কাজ করেন। তার বাসা সদরেই। অফিসিয়াল কাজে তিনি সন্ধ্যায় মেয়রের বাসায় গিয়েছিলেন। এসময় আরো কয়েকজন ওয়ার্ড কাউনসিলর, অফিস স্টাফ ও কর্মীরা ছিলেন। তখনই হঠাৎ বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে রুমের ভেতরে থাকা তারা সবাই কম বেশি দগ্ধ হন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল আযম খান বলেন, আমাদের এখানে ১২ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে কানন নামে এক নারীকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাকি ১০ জনের শরীরে ২০ শতাংশের কম করে দগ্ধ। তাদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ