সোমবার , ১২ মার্চ ২০১৮

আখতারুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের গাছে গাছে ভরপুর মুকুল । সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে হলুদ রংয়ের মুকুল এ অপরুপ সৌন্দ্যযের রুপ নিয়েছে । এখন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার পালা।  আশায় বুক বেঁধে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। চলতি বছরে শীত মৌসুমে প্রচন্ড শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার মত নানান সমস্যা কাটিয়ে মুকুল এসেছে ৬০ ভাগ গাছে। গত বছরের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আসা করছেন বাগান মালিকরা । সদর উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার একাধিক আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে বড় গাছের তুলনায় ছোট বা কম বয়সী গাছে মুকুল বেশি । এসব আম বাগানে বালাইনাশক ছিটানোর কাজ করছে শ্রমিকরা।
কৃষিবিদ ও আম চাষিরা বলছেন, বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুুকূলে থাকলে এবার আমের ভাল ফলন হবে। গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করছেন আম বাগানের মালিক ও আম চাষিরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন আম চাষিরা ।  
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় সব জাতের আমের উৎপাদন হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর কৃষি জমিতে বাড়ছে আমের আবাদ। বাগানে আম রুপালি, ফজলি, খিরসা, মোহনা, ল্যাংড়া, রাজভোগ ও গোপাল ভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও ছোট ছোট পরিত্যক্ত এবং বাড়ির আশপাশে জায়গাগুলোতে অনেক গাছ রয়েছে। ইতোমধ্যে আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তথ্যমতে, দেশজুড়ে যত আম বাগান তার বেশি ভাগ আম বাগান রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ জেলার উৎপাদিত আম এলাকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।
ঘনকুয়াশার কারনে আমের মুকুল কিছুটা নষ্ট হয়েছে , এরপর ঝুকি রয়েছে শিলাবৃষ্টি বা অতি খরার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ দেওয়া ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী বলা যায় যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির প্রায় ২০ লাখ আম গাছ রয়েছে । এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। আর গত বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মে.টন। এ বছর জেলার বিভিন্ন আম বাগানে ৬০ শতাংশ গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে।

 কৃষিসংবাদ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ