বুধবার , ১৪ মার্চ ২০১৮

এম এস নাসির,আমতলী,বরগুনাঃ

 বরগুনা জেলার আমতলীউপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। মা ব্রিকস ইটভাটার মালিক কবির পঞ্চায়েত মাটি কেটে ইটভাটিতে নিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বাঁধের মাটি কেটে নেয়ায় প্রাকৃতিক জলোচ্ছাসের আশঙ্কায় ওই এলাকার ১০ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ হুমকিতে রয়েছে।
জানা গেছে,উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন স্থানে কবির পঞ্চায়েত ৭ বছর পূর্বে মা ব্রিকস নামের একটি ঝিকঝাক ইটভাটা নির্মাণ করে।পায়রা নদীর মোহনা গুলিশাখালী নদী সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৩/২এফ পোল্ডারের বন্যা নিয়ন্ত্রনের বাঁধের কান্ট্রি সাইডের মাটি কেটে ইটভাটিতে নিয়ে যাচ্ছে।বাঁধ কাটায় সামুদ্রিক জলোচ্ছাসে গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১০ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন,বাঁধের কান্ট্রি সাইড কাটায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক জলোচ্ছাস হলে বাঁধ ভেঙ্গে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া, হরিদ্রবাড়িয়া,ফকিরখালী,কালীবাড়ী,উত্তর গোজখালী ও দক্ষিণ গোজখালী গ্রামসহ ১০ টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটি সংলগ্ন কয়েকজন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী কবির পঞ্চায়েত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কান্ট্রি সাইডের মাটি কেটে ইটভাটিতে নিয়ে যাচ্ছে।প্রাকৃতিক জলোচ্ছাস হলে এ বাঁধ   ভেঙ্গে পানিতে এলাকা তলিয়ে যাবে।
বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৫/৬ জন শ্রমিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কান্ট্রি সাইড থেকে প্রায় ১’শ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে  ইটভাটিতে নিয়ে যাচ্ছে।
মা ব্রিকস ইটভাটির মালিক কবির পঞ্চায়েত বলেন,ইটভাটিতে মাটি না থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে মাটি কেটে নিয়েছি।তিনি আরও বলেন,তবে কাটা বাঁধ ভরে দেয়া হবে।
গুলিশাখলী ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড. নুরুল ইসলাম বলেন,বাঁধ কাটা অপরাধ। ইটভাটির মালিককে বাঁধটি মেরামতের জন্য বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আমিনুল ইসলাম সোহাগ মুঠোফোনে বলেন,বিষয়টি আমি জানিনা।এখনই জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরগুনার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন,সংশ্লিষ্ট এসও’কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছি।

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ