বুধবার , ৩০ আগষ্ট ২০১৭

Under Construction

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে নানা পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   বুধবার , ৩০ আগষ্ট ২০১৭

সোহেল মিয়া, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) থেকে:
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় একটি গুরুত্বপুর্ন এলাকা। উত্তর বঙ্গের ১৬টি জেলা সহ ১১৩টি রোডের যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচল করে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর হয়ে চন্দ্রা, ঢাকার সাভার ও টঙ্গি থেকে বাইপাইল হয়ে চন্দ্রা অপর দিকে আশপাশের এলাকা থেকে সব ধরনের যানবাহন চন্দ্রা এসে ভীর করে। ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট এখন নিত্য দিনের ঘটনায় পরিনত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের সীমাহীন  ভোগান্তি শুরু হয়েছে। 
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহা সড়ক যানজট মুক্ত রাখতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ঈদে যাত্রীদের চলাচল নির্বৃঘœ করতে  এরই মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে ১২শ পুলিশ। এছাড়াও রাস্তা প্রশস্তকরন মানে ৪ লেনে উত্তির্ণ করা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া, সার্বক্ষনিক নজরদারী করা সহ উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চার লেন রাস্তার কাজ দ্রুতগতিতে রাতদিন এগিয়ে চলছে।  অত্যাধিক গুরুত্ব পূর্ণ এই চন্দ্রা এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে রাস্তায় চলাচলকারী পরিবহন ও যাত্রীদের।
জানা যায়, ওই সড়কে যানজটের ফলে গরু ব্যবসায়ীরা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহা সড়কে তীব্র যানজট থাকায় তারা সময় মতো হাটে পৌছাতে পারছেনা। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা গরু ভর্তি ট্রাক চালক আসলাম মিয়া জানান, আমার গাড়িটি রাজশাহী থেকে গাবতলী পৌছাতে সময় লাগবে ২দিন। রাস্তায় সময় বেশী লাগায় গরু ব্যবসায়ীরা আমাকে গালাগাল করছে। যানজটের ফলে কারখানার মালামাল আনা ও উৎপাদিত মালামাল সময় মত ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছেনা। শুধু মাত্র যানজটের জন্য প্রতিদিন কারখানার মালিকদের লোকশান গুনতে হচ্ছে। ফিলিং ষ্টেশন, সিএনজি ষ্টেশন ব্যবসায় প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবহন সেক্টরেও ধস নেমেছে। পরিবহন চালকরা  দিনে যেখানে ৬টিপ মারতে পারে, যানজটের কারনে সেখানে ৩টি টিপ দেওয়াই কষ্ট হয়ে পরে।  যাতায়াত ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে যানজট সব কিছুকে থমকে দিচ্ছে। সিমেন্ট ও রড ব্যবসায়ীরাও হতাশায় আছে। যানজটের কারনে মালামাল সময়মত সরবরাহ করতে পারছেনা। তা ছাড়া ট্রাক দিয়ে মালামাল সরবরাহ করতে গিয়ে যানজটে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কাচামাল সময়মত বেচাকেনা করতে গিয়ে যানজটের কারনে পারছেনা । ফলে লোকশান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। যানজটের কারনে প্রতিটি সেক্টরে অন্তহীন সমস্যা হচ্ছে।
সফিপুর বাজারের বায়েজিদ ষ্টীল করপোরেশনের মালিক নুরুল আমিন বলেন, যানজট আমাদের ব্যবসায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের প্রতিদিন হয়রানী ও লোকশান গুনতে হচ্ছে। 
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান বলেন, যানজটের ফলে মালিক শ্রমিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি যানজট এক দিন দু দিন হয় মেনে নেওয়া যায়। প্রতিদিন নিয়ন্ত্রনহীন যানজট হচ্ছে।এটা জরুরী প্রতিকার দরকার।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চলাচল স্বস্তিদায়ক করতে চন্দ্রা যানজট নিরসনে প্রশাসন বিষয়টিকে অতি গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের পদক্ষেপ নিয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ ওই সড়কের যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। ইতি মধ্যে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ যানজট নিরসনের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সড়কের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। মহাসড়ককে যানজট মুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ একযোগে কাজ করছে। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনের জন্য উচ্ছেদ অভিযান,ফুটপাত দখল মুক্ত রাখা,তিন চাকার গাড়ী সড়কে উঠতে না দেওয়া, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, হাইওয়ে পুলিশকে সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করে আসছে। অপর দিকে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ, গাজীপুরের বাইরের রি-জোন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স আনা, ঈদে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া, মন্ত্রীর নির্দেশ মত স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে কাজ করাসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি মো. হোসেন সরকার বলেন, মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়ের  যানজট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। আশা করি এবার কিছুটা যানজট মুক্ত রাখতে পারবো।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা  হয়েছে। ইতি মধ্যেই আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক ক্লিয়ার রাখবো । ফলে যানজট কিছুটা হলেও কমবে। 

 আইন-শৃংখলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ