মঙ্গলবার , ০৩ এপ্রিল ২০১৮

দেশে নজরদারি প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে ৬০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   মঙ্গলবার , ০৩ এপ্রিল ২০১৮

বহুদিন ধরেই দেশের বাজারে প্রযুক্তি পণ্য সরবরাহ করছে এক্সেল টেকনোলজি লি.। এই কোম্পানিটি যতোগুলো ব্র্যান্ডের পণ্য সরবরাহ করে থাকে তার মধ্যে হিক ভিশন অন্যতম। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভ্রমণে আসেন হিক ভিশনের সাউথ এশিয়ার বিপনন বিভাগের প্রধান টনিক ডিউ। বাংলাদেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার, চাহিদা, গ্রোথসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় টনিক ডিউ এর সঙ্গে।
চীনা কোম্পানি হিক ভিশন তাদের বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে সরবারাহ করছে অনেকে আগে থেকেই। বিশ্বব্যাপী  হিক ভিশন পণ্যের বাজার হিসেব করলে বাংলাদেশের নাম প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যেই থাকে বলে জানান সদ্য বাংলাদেশে সফরে আসা হিক ভিশনের সাউথ এশিয়ার বিপনন বিভাগের প্রধান টনিক ডিউ। তিনি আরো জানান,বাংলাদেশে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সফরে এসেছেন। আর আগেও তিনি এক্সেল টেকনোলজির আমন্ত্রণে এসেছিলেন। বাংলাদেশে হিক ভিশনের প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা, মার্কেট গ্রোথ সম্পর্কে টনিক ডিউ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিপণ্যের মার্কেট হিসেবে বাংলাদেশ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মার্কেট। বর্তমানে বাংলাদেশ তামিল নাড়ু ও চেন্নাইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। শুধু তা-ই নয়, বিশ্ব বাজারের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করছে বাংলাদেশ।’ তিনি আরো বলেন,‘বাংলাদেশের ইকোনোমিক গ্রোথ, জনসংখ্যার দিক থেকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির বাজার। এখানে প্রতিবছর ৬০ শতাংশ হারে প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বাড়ছে।’

বর্তমানে সার্ভেলেন্স ক্যামেরার জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা হচ্ছে। দেশের চাহিদা পূরণে হিক ভিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নজরদারী ক্যামেরার চাহিদা বেড়েই চলেছে। দেশের চাহিদার কথা বিবেচনা করে হিক ভিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বাংলাদেশে চাহিদানুযায়ী অ্যানালক ক্যামেরা ও ডিভিআর বক্স সরবরাহ করা হবে। তবে হাই ডেফিনেশন অ্যানালক ক্যামেরার চাহিদা রয়েছে এখনে। আমি বাংলাদেশ সফরে এসে এই বিষয়গুলোকে তালিকাবদ্ধ করেছি।’

সম্প্রতি দেশে ফোরজি সেবা চালু হয়েছে। হিক ভিশনের অনেক ক্যামেরা ও পণ্য রয়েছে যেগুলো ওয়া-ফাই সমার্থনযোগ্য, এই পণ্যগুলোতে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা ফোরজির সুবিধা পাচ্ছে না। এ ব্যপারে হিক ভিশন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে টনিক ডিউ বলেন,‘সদ্য দেশে ফোরজি সেবা চালু হয়েছে। আমরা যুগপোযোগী পণ্যের কথা বিবেচনা করি সব সময়। এখন এ দেশে ফোরজি সমার্থনযোগ্য পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং আমরা তা পূরণ করবো।’ দেশের বাজারে লোকাল বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের তুলনায় হিক ভিশনের প্রযুক্তি পণ্যে দাম একটু বেশিই দেখা যায়। এই বিষয়ে টনিক ডিউ বলেন,‘কোয়ালিটি সম্পন্ন পণ্যের মূল্য একটু বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর কারণ হচ্ছে, একটি পণ্যের গুনগত মান নিয়ন্ত্রণ, বিক্রয়োত্তর সেবা ও বিনিয়োগ এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অনেক প্রতিষ্ঠানই রয়েছে যারা পণ্যের মান ও বিক্রয়োত্তর সেবার দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। হিক ভিশন এই বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বসহকারে দেখে। বাংলাদেশের বাজারে হিক ভিশনের পণ্য এর ব্যপক চাহিদা ও বিক্রয়োত্তর সেবার দিকে থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। ’

এক্সেল টেকনোলজি কী একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা হিক ভিশনের প্রযুক্তি পণ্য সরবরাহ করে? এমন প্রশ্নের জবাবে টনিক ডিউ বলেন, ‘হিক ভিশনের পণ্য বাংলাদেশের বাজারে অনেকগুলো চ্যানেল হয়ে আসে। এগুলো প্রত্যেকটি আলাদা চ্যানেল। যেহেতু হিক ভিশনের পণ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাই একটি সু-খবর দিচ্ছি যে, বাংলাদেশের বাজারে হিক ভিশনের পণ্য সরবরাহের জন্য এদেশেই তা তৈরি করা হবে। প্রথম দিকে হয়তো অ্যাসেম্বেলিং করবো এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ উৎপাদনে যাবো। তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ এখানে আমাদের পণ্যের বাজার আরো বৃদ্ধি পাবে। যেকোন উন্নয়নশীল দেশের সরকারই হয় প্রযুক্তি পণ্যের বড় ক্রেতা। বাংলাদেশেও তেমনই একটি দেশ, এদেশের সরকারও আমাদের পণ্যের অনেক বড় ক্রেতা।’ তিনি জানান, মার্কেটিং পলিসি হচ্ছে একটি পণ্য জনপ্রিয় তোলার অন্যতম বাহন। হিক ভিশনের পণ্যগুলোর জন্য মার্কেটিং শক্তিকে আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোন কোন পণ্য বাংলাদেশের বাজাররে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের তা জানতে চাইলে টনিক ডিউ সে প্রসঙ্গে বলেন,‘আমাদের আরো পরিকল্পনা রয়েছে যে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎবিহীন নজরদারী ক্যামেরা সিস্টেম উন্মুক্ত করার। প্রতিটি ক্যামেরাতে থাকবে আলাদা ব্যাকআপ সিস্টেম ও জিএমএম সিম সিস্টেম। এই পদ্ধতিতে জিএসএম সিমের মাধ্যমে ফোরজি নেটওয়ার্ক কানেক্ট হবে এবং ডিভিআর বক্স ছাড়াই আলাদা এসএসডি কার্ডে তথ্য জমা হবে। কোন ব্যবহারকারী চাইলে ভিন্ন উপায়েও তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে এবং নজরদারীও করতে পারবে। এছাড়াও আমরা এআই টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছি। এআই টেকনোলজির মাধ্যমে নজরদারীর বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। হোম সিকিউরিটি নিয়েও আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমরা অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছি হোম সিকিউরিটি নিয়ে।’

হিক ভিশন পণ্যের বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান প্রসঙ্গে টনিক ডিউ বলেন, ‘আমরা বিক্রয়োত্তর সেবাকে আমরা বেশ গুরুত্ব দিচ্ছি। বাংলাদেশে হিক ভিশনের যে সার্ভিস সেন্টারগুলো রয়েছে সেগুলোকে অনেক দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী হিক ভিশন বিক্রয়োত্তর সেবাদানকারী দেশগুলোর মধ্যে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই ক্যাটাগরিতে ব্রাজিলকে প্রথম, থাইল্যান্ডকে দ্বিতীয় ও বাংলাদেশকে (এক্সেল টেকনোলজি লি.) তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই ক্যাটাগরিতে যে দেশে বিক্রয়োত্তর সেবা গ্রহণের জন্য পণ্যগুলো বেশি পরিমাণে ব্যবহার উপোযোগী করে গ্রাহককে দিতে পেরেছে (ওয়ারেন্টিজনিত কারণে পণ্য চায়নাতে প্রতিস্থাপনের জন্য কম প্রেরণকারী) তার ওপর ভিত্তি করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

 তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ