শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ডেকে ছাত্রত্ব বাতিল, গোয়েন্দা নজরদারি ও মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানের বিরুদ্ধে। এ রকম ৩ মিনিটের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেওয়ার কথাও শোনা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রদীপ্ত ভবনের নিচে ডেকে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ছাত্রীরা।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘অনেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয়, তাদেরকে গভ. থেকে দেখা হচ্ছে। ইন্টেলিজেন্স সেল দেখবে যে, কারা কারা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিচ্ছে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট অ্যানি ইনভলভমেন্ট। এর পর এই হলে ছাত্রলীগ যদি গণ্ডগোল করে আমাকে বিচার দেবে। যদি জেনারেল মেয়ে গণ্ডগোল করলে আমাকে বিচার দেবে।’

'এখন থেকে হলে সিট হল প্রশাসন দেবে। এর বাইরে আর সিট হবে না। তিনি বলেন, হলে যদি আর কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে বা তোমরা কোনো পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা কর হলকে বিভ্রান্ত করার জন্য, তাহলে কিন্তু আমরা সরকারকে বলব...আমার নলেজের বাইরে আমার ভিডিও যে আপলোড করে সেটা কিন্তু ক্রাইম। আজকে আমি বলে দিলাম সেটা কিন্তু সাইবার ক্রাইম...আই ওয়ান্ট টু বি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার।' 

এরপর ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কারও কিছু প্রশ্ন আছে?’ 

তখন এক ছাত্রী বলেন, ও একা কিছু করেনি। ওইদিন রাতে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভানেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটেছে তাতে দুই হাজার ছাত্রী জড়িত ছিল।

তখন অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, ‘দুই হাজার মেয়ে কিছু করেনি। আমার সিসিটিভি ফুটেজে আছে কারা কারা করেছে।' 

তখন উপস্থিত ছাত্রীদের এক সাথে বলতে শোনা যায়, ম্যাম, সবাই ছিল। সবাই ছিল।

এরপর অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, 'যদি দুই হাজার মেয়ে করে থাকো, তাহলে দুই হাজার মেয়ে স্বাক্ষর দাও, আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেব। আমি দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব।’

সাথে সাথে ছাত্রীরা নরম সুরে বলতে থাকেন, ম্যাম, ম্যাম, ওরা মারেনি, ওরা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেছে। 

তখন অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা আবারও বলেন, 'আমার শিক্ষকরা দেখেছে, সিসিটিভিতে প্রমাণ আছে ওরা মেরেছে। তোমরা যদি মেরে থাক, নাম লেখ। ওই দিন যেটা হয়েছে, সেটা অপপ্রচার। ওই মেয়ে যার পা কেটেছে, সে নিজে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ওর (মোর্শেদা) শুধু পা-ই কেটেছে। এই মেয়েটাকে (এশা) যে পরিমাণ মারা হয়েছে, সেটা কী বিচারে মারা হয়েছে? যে মেয়ে ভয় পেয়েছে, সে নিজে বলেছে।’

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার দিন গভীর রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে কয়েকজন ছাত্রীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। 

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ফেসবুকে ‘সরকারবিরোধী বক্তব্য ও অপতথ্য’ ছড়ানোর কারণে তিন ছাত্রীকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ‘দোষী’ তিন ছাত্রীকে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়ে হল প্রশাসন ‘সঠিক’ কাজ করেছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এটা না করলেই বরং তিনি হল কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করতেন। 

তিনি বলেন, ‘তারা ফেইক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ফেসবুকে অপতথ্য দিচ্ছে হল সংক্রান্ত, সরকারবিরোধী, আরও নানা সব তথ্য, সব সংরক্ষিত আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন তাদের বলা হলো যে, বাবা এগুলো যদি তোমরা কর তাহলে তো হল ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।'

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ সাবিতা রেজওয়ানা রহমান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, যে সব ছাত্রীদের মোবাইল চেক করে ফেসবুকে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে গুজব ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদেরকে মুচলেকা দিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে তার করা মন্তব্য নিয়ে কোনো কথা বলতে তিনি রাজি হননি।

 শিক্ষা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ