সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮

সখীপুরে ধানের পেটে চাউল নেই!

  সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষকের মাথায় হাত! ধানের পেটে চাউল নেই। কৃষকের মুখে কোন ভাষাও নেই। ইরি-বোরোর সোনালী ফসলের বিস্তৃর্ণ মাঠ ক্রমেই পুড়ে যাচ্ছে ব্লাস্ট নামক ছত্রাকে। দূর থেকে দেখে মনে হয় মাঠের ফসল পেকে গেছে। সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। রোপনের কিছুদিন পরেই অনেক ক্ষেতে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দেয়। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা এলাকায় ব্যাপক প্রচারণাসহ কৃষকদের পরামর্শ দেন। কিন্তু মৌসুমের শেষের দিকে এসে ফসলগুলো পুনরায় ব্লাস্টের আক্রমণের শিকার হয়েছে। সাধারণত ব্রি-২৮ জাতের ধানে এ রোগটি বেশি আক্রমণ করেছে। আগামীতে কৃষকদের ব্রি-২৯ জাতের বীজ রোপন করার পরামর্শ দেয়া হবে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। 

উপজেলার কৃষক ও স্থানীয় সার-বিষ, বীজ ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধানের চারা রোপনের কিছুদিন পর সবুজ পাতায় কালো দাগ দেখা দেয় এবং পাতা পচে যেতে থাকে। ওই সময়  কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ট্রাইসাইক্লাজোল উপাদানের ট্রুপার-৭৫ ডব্লিউ পি, সেলট্রিমা জাতীয় বিভিন্ন ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। কিন্তু মৌসুমের শেষের দিকে এসে ধানের শীষ বের হওয়ার তিন-চারদিন পরই শীষগুলো মরে যাচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখা যায় শীষের সবক’টি ধানই চিটে। 

উপজেলার ছোটমৌশা গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, ‘আমার ধানক্ষেতে তিনবার বিষ দিছি (দিয়েছি)। কিন্তু এই হিনজা মরা (শীষ মরা) রোগ ভালো হইল না। শেষে সব ধান মইরা গেলো।’ 

উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে হাজার হাজার টাকা ভরে সেচ দিয়েছি। টাকাও গেলো, ধানও গেলো। 

 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘সাধারণত স্প্রে করার পর নতুন করে এ রোগ আক্রমণ করার কথা নয়। অনেক সময় স্প্রে’র ডুজ না মেনে কম পরিমাণে স্প্রে করলে এ সমস্য হয়। উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। তারপরও শেষ রক্ষা হবে কিনা জানিনা।’ 

 কৃষিসংবাদ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ