রবিবার , ১৩ মে ২০১৮

বগুড়া প্রতিনিধিঃ কাহালুতে এ মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও গত কয়েক দিনের টানা শিলাবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ জমির ধান শুয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ধানক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে ধান ক্ষেতগুলোতে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট জোঁক। এ কারণে ধান কাটার মূল্য দ্বিগুণ বেড়েছে। যেখানে ধানকাটার শ্রমিকরা বিঘা প্রতি ২ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পেত সেখানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। একেতো অতিবৃষ্টি এর উপর ক্ষেতের বেহাল দশা, এ দু’য়ে মাথায় হাত এ অঞ্চলের কৃষকদের। এই বর্ষার মৌসুমে ধান কাটার জন্য বাড়তি টাকা দিতেও প্রস্তুত গৃহস্থরা। আর জমিতে হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত জোঁকের আক্রমণের কারণে ভয়ে ভয়ে ধান কাটছেন শ্রমিকরা। এর জন্য গৃহস্থদের বাড়তি কেরোসিন, মোবিল ও পলিথিন সরবরাহ হচ্ছে। কাহালুর দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান খান বদের জানান, তার ইউনিয়নের প্রতাপপুর, লোকনাথপাড়া, আড়োবাড়ী, ফকিরপাড়া, পুইয়াগাড়ী, আটাশি এলাকায় ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। দূর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ছাড়াও কাহালু সদর ইউনিয়ন ও পৌর সদরে ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে ধান ক্ষেত সহ টিনের বসত বাড়ির ক্ষতি অধিক হয়েছে। ঝড়ে গেছে অধিকাংশ জমির পাকা ধান, বসত-বাড়ির ছাউনীর টিন শিলাবৃষ্টিতে ফুটো হয়ে এক প্রকার ঝাঁঝড়া হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আখেরুল ইসলাম জানান, শিলাবৃষ্টি হলেও ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি। ধান-চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো সমস্যাও হবেনা বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পৌর কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায় বসত-বাড়ির পাশাপাশি বোরো ধানের অনেকটা ক্ষতি হয়েছে। পাবহারা গ্রামের কৃষক সোলাইমান আলী জানান, ঝড় আর শিলা বৃষ্টির কারণে জমিতে প্রচুর জোঁক হয়েছে। ধান কাটার লেবারদের দাম অনেক বেশী। তবুও আমরা সে মজুরি দিতেই প্রস্তুত। ধান শুয়ে যাওয়ার কারণে শুধু ধানের শীর্ষ টুকুই কাটতে হচ্ছে। তবে ধানের ভালো বাজার মূল্য পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী এ অঞ্চলের কৃষকরা।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ