সোমবার , ১৪ মে ২০১৮

চঞ্চল দাশগুপ্ত,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে সড়ক দূর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। এমন কোন দিন নেই সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহত বা প্রাণ হানির ঘটনা ঘটেনি। এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেকে পরিবার একেবারেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। গত দু’সপ্তাহে সড়ক দূর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণ গেলো। এভাবে প্রতিদিন সড়ক কেড়ে নিচ্ছে তাজাপ্রাণ। শুধু দূরপাল্লাহ যাতায়াতে নয়, শহরের ভেতরেও একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।জানা গেছে, মে মাসের প্রথম থেকে ১৩মে পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণহানিসহ পঙ্গু হয়েছেন দুই জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। অদক্ষ চালকের কারণেই ইদানিং সড়ক সংখ্যা দিন  বেড়েছে। 
নিরপাদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর কক্সবাজার জেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন এ ব্যাপারে বলেন, কক্সবাজারে প্রতিদিন যে হারে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ হারাচ্ছে তাতে প্রশ্ন ওঠে,স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কোথায়? কখনো বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, কখনো পথচারীকে সজোরে ধাক্কা এবং বেপোরোয়া ও অদক্ষ চালকের কারণে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।তিনি আরও বলেন, নিসচা’র তৈরি প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্যান্য মাসে গড় মৃত্যুর হার ৫ পার্সন না হলেও এ মাসের  প্রথম থেকে গতকাল পর্যন্ত সড়ক কেড়ে নিয়েছে ১৩ নারী-পুরুষ ও শিশুর প্রাণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজার জেলায় ১৩ মে তিনজন, ১২ মে দুজন, ১০ মে দু’জন , ৯ মে দুজন, ৩ মে দুজন ও ২ মে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিৎ বডুয়া জানান, ১৩ মে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের হোয়াইক্যংয়ের কানঞ্জরপাড়া মসজিদের সামনে ম্যাজিক পরিবহনের ধাক্কায় একই গ্রামের জাফর আলমের ছেলে মোটর সাইকেল আরোহী মেহেদী হাসান (২০) নিহত হয়েছে।কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস জানান, ১২ মে রাত দুই টার দিকে কুতুবদিয়ার দরবার রাস্তামাথায় দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেলের গাছের সাথে ধাক্কা লেগে উপজেলার উত্তর ধুরুং এলাকার গৌরাঙ্গ প্রকাশের ছেলে রঞ্জিত প্রকাশ লালু (৪৫) ও নয়াপাড়া এলাকার শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক (২০) নিহত হন। এ সময় রাজীব চাকমা নামে অপর আরেকজন আরোহী আহত হন। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ উদ্দিন জানান, ১২ মে বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডির কালু ফকির পাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বেগম বাহার (৫০) নিহত হয়েছেন। এনিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গাড়ি  চালানোর কারণেই মূলত সড়ক দূর্ঘটনা  বেড়েছে। এসব চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ