সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

৫ লক্ষ মানুষের জন্য চিকিৎসক ৪ জন

  শনিবার , ১৯ মে ২০১৮

বরগুনা প্রতিনিধিঃ 
বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলীর দুই উপজেলার পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় চিকিৎসক আছে মাত্র চারজন।দুটি উপজেলায় ৩৯ টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও ৩৫ টি পদ শূন্য।এ ছাড়াও আমতলীর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালের নতুন ভবনে ক্রটিপুর্ণ বৈদ্যুৎতিক সংযোগের কারনে অধিকাংশ ফ্যান অকেজো।শৌচাগারে নেই কোন লাইট।তালতলীর ২০ শয্যা ও কুকুয়ার ১০ শয্যা হাসপাতালের অবস্থা অত্যান্ত নাজুক।তিনটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও ৭ টি ইউনিয়ন ক্লিনিকে নেই কোন চিকিৎসক।এতে ভেঙ্গে পড়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবা।সামান্য অসুখ হলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির যেতে হয় শহরের কোন হাসপাতালে।আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৫ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা।
জানা গেছে,আমতলী ও তালতলী দু’উপজেলার তিনটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,তিনটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য এন্ড হেলথ ক্লিনিকের ৩৯ টি  চিকিৎসকের পদ রয়েছে।এর মধ্যে আমতলী উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছে ৬ জন।এর মধ্যে ডাঃ মোনায়েম সাদ প্রেষণে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে,জিকু শীল ও ডেন্টাল চিকিৎসক রকিবুল আলম ২ মাসের বেসিক ট্রেনিংয়ে রয়েছেন।
আমতলী উপজেলায় স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ তিন জন দিয়ে চলছে উপজেলার সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা।তালতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে।এর মধ্যে চিকিৎসক আছে মাত্র ১ জন।ওই একজন চিকিৎসক দিয়ে চলে দেড় লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা।কুকুয়ার ১০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কোন চিকিৎসক নেই।গুলিশাখালী,গাজীপুর ও তালতলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য এন্ড হেলথ ক্লিনিকে কোন চিকিৎসক নেই।আমতলী ও তালতলীর স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোর চিকিৎসক পদ খালী থাকায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।এদিকে গাজীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকে প্রায়ই তালাবদ্ধ।সেখানে চিকিৎসক ও কর্মচারী নেই।উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার ওই ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকলেও তিনি সপ্তাহে একদিন যান।আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক না থাকায় মানুষের পটুয়াখালী ও বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।এতে একদিকে যেমন রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে,অন্যদিকে চরম অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তারা।
গাজীপুর এলাকার সোহেল রানা বলেন,গাজীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুর সরকার দায়িত্বে থাকলেও তিনি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার আসেন।বাকী দিনগুলি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।তিনি আরো বলেন,অনেক রোগী এসে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র তালাবন্ধ দেখে চিকিৎসা না নিয়ে চলে যায়।
গাজীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার সপ্তাহে দু’দিন যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন,আমাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে আনা হয়েছে।
বৃহসপতিবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ট্রমা সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে,দুই চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিচ্ছে।অনেক মানুষ লাইনে দাড়িয়ে রয়েছে।দুই চিকিৎসক সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।এ ছাড়াও পুরুষ ওয়ার্ডে ১০ টি ফ্যানের ৬টি অকেজো।শৌচাগারে লাইটের পয়েন্ট থাকলেও ভাল্ব নেই।মহিলা ওয়ার্ডে ৮ টি ফ্যানের ৬ টি অকেজো,শিশু ওয়ার্ডে ৫ টি ফ্যানের ৩টি অকোজো, ডায়েরিয়া ওয়ার্ডে দু’কক্ষে ৪ টি ফ্যানের ৩ টি অকেজো।ডায়েরিয়া ওয়ার্ডে কোন শৌচাগার নেই।শৌচাগারগুলো রয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন এ দুরবস্থা চলছে গত দুই তিন বছর ধরে।
রোগী রহিমন,নিলুফা ও তহমিনা অভিযোগ করে বলেন,রাতের অন্ধকারে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে শৌচাগারে যেতে হয়।শৌচাগারে লাইট না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।তারা আরও বলেন,হাসপাতালের অধিকাংশ ফ্যান অকোজা।গরমে টেকা যায় না।
গুলিশাখালী গ্রামের শহীদুল ইসলাম বলেন,পুরুষ ওয়ার্ডের ১০ টি ফ্যানের ৬টি অকোজো।হাসপাতাল নয়তো যেন আজাব খানা।
তালতলীর গাবতলী গ্রামের মোঃ আবদুল মাজেদ মাস্টার জানান,স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন চিকিৎসক না থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।সামান্য অসুখ হলেও তাদের শহরের কোন চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে হয়।এতে যেমনি গরিব মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রন্থ হচ্ছে তেমনি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন,৩৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে ৪ জন চিকিৎসক রয়েছে।চিকিৎসক চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছি।তিনি আরও বলেন,অকোজো ফ্যানগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।

 কৃষিসংবাদ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ