শনিবার , ২৬ মে ২০১৮

নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জীবন বদলে দেওয়া সফর, এ কথা তিনি ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। ঢাকা থেকে এ অভিনেত্রী যান যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। যাত্রাপথে ছবি শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে এ অভিনেত্রী বলেছেন, ‘আমার মাথায় একটি বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছে। আমার জীবনটা কতটা সুন্দর। আমি কতটা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আছি, কতটা ভাগ্যবান আমি। আমার জীবনটাকে এতটা সুন্দর করার জন্য যাঁরা সব সময় অবদান রেখেছেন, তাঁদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘আমার কাছে যা আছে, তার জন্য আমি সন্তুষ্ট। আমার যা কিছু আছে, তা দিয়ে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা, তিনি আমাকে সেই সামর্থ্য দিয়েছেন।’
প্রিয়াঙ্কা জানান, ইউনিসেফের হয়ে বাংলাদেশের এবারের ভ্রমণ নিয়ে তিনি খুবই অনুপ্রাণিত। এখানে আসার পর বেঁচে থাকার জন্য যে কতটা সংগ্রাম করতে হয়, তার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়ে রইলেন বলে জানালেন ১২ বছর ধরে ইউনিসেফের হয়ে কাজ করা ভারতীয় এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকার এই অবিশ্বাস্য শক্তি ও কষ্ট আমাকে আরও নত হতে শিখিয়েছে।’
ঢাকা ছাড়ার আগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। চার দিন ধরে কক্সবাজারে নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা বই উপহার দেন।
বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চার দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানের সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে তিনি শিশুদের নিয়ে তাঁর নিজের ভাবনা তুলে ধরেন।
যুক্তরাজ্যে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের রাজকীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরাসরি কক্সবাজারের রোহিঙ্গাশিবিরে হাজির হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের ড্রয়িংয়ের খাতা দেখার পর তাঁর হৃদয় স্পর্শ করেছে।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি শুনেছি, নৃশংস, হিংস্র ও নিষ্ঠুরতায় পরিবারগুলোকে তাদের বাড়ি ছেড়ে আসতে বাধ্য করেছে। আমি দেখেছি অসহনীয় পরিস্থিতি, যেখানে লাখ লাখ শিশু এখন বসবাস করছে। শিশুদের সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদানে ইউনিসেফ ও তাঁর পক্ষে যা করা সম্ভব, এমন সবকিছুই তারা করেছে। কিন্তু আরও অনেক কিছু করতে হবে।’
সবাইকে শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, যার যতটুকু সামর্থ্য, তা দিয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। নিজস্ব অর্থায়নে ৮০ জনের মতো শিশুকে নিয়ে তিনি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন। এই ফাউন্ডেশনের সব শিশুকে নিজের সন্তানের মতো মনে করেন।

 বিনোদন থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ