বৃহস্পতিবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

রমজানের এক সপ্তাহের মাথায় দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ছোলার দরপতন শুরু হয়েছে। ১০ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ছোলার দাম কমেছে মানভেদে তিন থেকে ছয় টাকা।

পাইকারি বাজারে দাম কমলেও ভোক্তারা এর সুফল পাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো ছোলার খুচরা ক্রেতা ও বিক্রেতা—এ দুই পক্ষই রোজার শুরুতে চাহিদানুযায়ী ছোলা সংগ্রহ করে নিয়েছে। এ কারণে গতকাল খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে দাম কমার পরও ছোলার বেচাকেনা কমে গেছে।
আর খুচরা বাজারেও সেভাবে দাম কমেনি। গতকাল বৃহস্পতিবারও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৬৮ টাকায়। কোথাও প্রতি কেজি ৭০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী জে এস ট্রেডার্সের কর্ণধার রতন ঘোষ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, রোজার শুরুর তিন দিন আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা দুই ধরনের ছোলা কেজি ৫৩ ও ৬৪ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। দাম কমার পর এই ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ ও ৫৭ টাকা। এর চেয়ে বেশি দামি ছোলা বাজারে নেই।
পাইকারি বাজারে ছোলার দরপতনের কারণ দুটি। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার ক্রমাগত দরপতন। আরেকটি হলো রোজার মাসে ৭০-৮০ হাজার টন ছোলার চাহিদার বিপরীতে চলতি বছর প্রথম চার মাসে আমদানি হয়েছে দেড় লাখ টন। এই দুই কারণে ছোলার দাম পড়ে গেছে।
প্রতিবছর রোজার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বাড়লেও এবারই প্রথম কমল এই পণ্যের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কমে যাওয়ার পেছনে নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে ভারত। ছোলার শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ভারত। ফলন ভালো হওয়ায় নিজেদের কৃষকদের সুরক্ষা দিতে বাইরে থেকে ছোলা আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটি। যেমন ভারতের ব্যবসায়ীরা ছোলা আমদানি করতে হলে ৬০ শতাংশ শুল্ক-কর দিতে হবে। গত ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তিন দফায় এই শুল্ক-কর ধার্য করার পর ভারতের ব্যবসায়ীরা ছোলা আমদানি কার্যত বন্ধ করে দেন। এরপরই বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যায় ছোলার। কমে যায় দামও। এর সুফল পেল বাংলাদেশের মতো আমদানিকারক দেশগুলো।
গত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে যেসব ছোলা আমদানি হয়েছে, তা বন্দর পর্যন্ত আনার খরচ পড়েছে প্রতি টন ৬৩০ থেকে ৬৭০ ডলার। এই ছোলা এখন পাওয়া যাচ্ছে জাহাজ ভাড়াসহ প্রতি টন ৬০০-৬১০ ডলারে। এবার ছোলা এনে অনেক আমদানিকারক লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বিক্রি হওয়া ছোলার প্রায় ৯৩ শতাংশই অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়েছে ৫ শতাংশ। বাকি ছোলা আমদানি হয় ইথিওপিয়াসহ ছয়টি দেশ থেকে।

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ