রবিবার , ২৭ মে ২০১৮

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আরও ৪

  রবিবার , ২৭ মে ২০১৮

দেশজুড়ে র‍্যাব ও পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে গতকাল শনিবার রাতে চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলেছে, তাঁদের মধ্যে মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন দুজন। বাকি দুজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে।
এ নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর ১৩ দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৮৫–তে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তাঁদের ৭৮ জনই মাদক ব্যবসায়ী। গতকাল রাতের বন্দুকযুদ্ধের পর দু-একটি ছাড়া প্রতিটি ঘটনাস্থল থেকেই ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করার হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলেছে, ১৭ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত নয় দিনে সারা দেশে পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায় জড়িত অভিযোগে সাত হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ইয়াবা, ২ হাজার কেজি গাঁজা, ১৭ কেজি হেরোইন, ১৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল ও ১ হাজার ১০০ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়। মাদক বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় সাড়ে পাঁচ হাজার মামলা হয়েছে।

মেহেরপুর: গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথানমাঠে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে হাফিজুর রহমান ওরফে হাফিজ (৪৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে এ বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাফিজুরের লাশ পায়। পুলিশের দাবি, হাফিজুর একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। গাংনী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের দুই ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ: ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ময়মনসিংহে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ডিবির ভাষ্য, মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছেন—এমন খবরের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার টহল পুলিশও। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময় হয়। কিছুক্ষণ পর মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাত একজনকে পাওয়া যায়। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ের ঘটনায় হুমায়ুন ও আমির হামজা নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঝিনাইদহ: শৈলকুপার বড়দাহ জামতলায় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁর নাম রফিকুল ইসলাম ওরফে গাঁজা লিটন। পুলিশ বলেছে নিহিত ব্যক্তি চিহ্নিত গাঁজা ব্যবসায়ী ছিলেন। দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে গাঁজা লিটন নিহত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে শৈলকুপাসহ পার্শ্ববর্তী থানাগুলোয় ১২টি মাদক মামলা রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, রাত একটার পর তাঁরা হঠাৎ করে গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে বড়দাহ জামতলায় রাস্তার পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

চাঁদপুর: মতলব দক্ষিণে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. সেলিম (৩৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী। গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে মতলব দক্ষিণ থানা ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ দল চাঁদপুরের মতলব সড়কের হাজীর ডোন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। কিন্তু সহযোগীরা তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময় হয়। এ সময় সেলিম গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সেলিমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। 
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কুতুব উদ্দিন বলেন, এই ঘটনায় তাঁদের চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 ক্রাইম নিউজ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ