রবিবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকদের অংশগ্রহণের ন্যূনতম হার কমানো এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শুনানির তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ গেছে। ফলে চার বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে (আইএলসি) বাংলাদেশের শ্রম অধিকার নিয়ে কোনো শুনানি হবে না। 
গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান প্রথম আলোকে 
এ তথ্য জানান।
গত সোমবার থেকে জেনেভায় শুরু হয়েছে আইএলওর বার্ষিক সম্মেলন। আগামী ৮ জুন এটি শেষ হবে। 
শামীম আহসান জানান, বাংলাদেশ শ্রম অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন সময় নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে যেসব প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তা পর্যালোচনা করে আইএলসির মানদণ্ড প্রয়োগবিষয়ক কমিটি (সিএএস) গতকালের বৈঠকে শুনানির তালিকায় বাংলাদেশকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
জেনেভা থেকে বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে জানান, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ন্যূনতম হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সরকার ২০ শতাংশে নামানোকে সিএসির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলা হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) শ্রম আইনের অধীনে শ্রমিক সংগঠন ও স্থাপনা পরিদর্শনের দায়িত্ব কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ মন্তব্য করা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কমিটির পরের বৈঠকে বাংলাদেশের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আইন ও বিধি আকারে পরিমার্জন বা সংযোজন করা হয়েছে কি না, সেটা পর্যালোচনা করা হবে। 
প্রসঙ্গত, রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই বাংলাদেশের শ্রম অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বড় পরিসরে আলোচনায় চলে আসে। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বলেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন সামনে রেখে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকদের অংশগ্রহণের ন্যূনতম হার কমানো এবং ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে তাগিদ দিচ্ছিল আইএলও। কারণ, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে সম্প্রতি নেওয়া পদক্ষেপগুলো সরকার গত নভেম্বরে পূরণের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় আইএলওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ এগুলো পূরণ করতে তাগিদ দেয়। এরপর সরকার আইন, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়কে বিষয়গুলো দ্রুত সুরাহার তাগিদ দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সভায় বিষয়গুলো সুরাহা করে তা কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের ডেকে নতুন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করে।

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ