বৃহস্পতিবার , ৩১ মে ২০১৮

 ডেস্ক রিপোর্টঃ
৫ই এপ্রিল ১৯৮১ সনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে বর্হিবিশ্বের রাজনৈতিক সংগঠনের অন্যতম নায়ক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর জনাব সাইদুর রহমান শাহাদাৎ বরণ করেন। কোলকাতার বিখ্যাত কলেজ (১৯৪৪-৪৭)-এ বিভিন্ন পর্যায়ে বাঙ্গাঁলী জাতির স্বাধীকার আন্দোলন এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনাব সাইদ প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। তিনি সমগ্র বাংলা মুসলিম ছাত্র এসোসিয়েশেন (১৯৪৪-৪৭) এর কার্যকরী পরিষদ সদস্য এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের পক্ষে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে যোগদান করেন। সাইদুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত অবস্থায়, তার নেতা শেখ মুজিবর রহমানের নির্দেশে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে অসহযোগ শুরু করেন (৮ই মার্চ ১৯৭১)।
স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োজিত বহির্বিশ্বে মিশন সমুহে কর্মরত সকল বাঙ্গাঁলী অফিসারদের মধ্যে সাইদুর রহমানই সর্বপ্রথম অফিসার যিানি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন ১৮ই মার্চ, কোলকাতা ১৯৭১ (মুক্তিযুদ্ধেও প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান সংকলন)। নির্বাসনে মুজিব নগর সরকার গঠন এবং গোপন অফিস পরিচালনায় তিনি যথেষ্ট ভুমিকা রাখেন (১৮ই এপ্রিল ১৯৭১-১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১)।
১৮ই এপ্রিল ১৯৭১ এ নির্বাসনে মুজিব নগর সরকারের আদেশ জনাব সাইদ, উক্ত সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পান এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন কোলকাতা হাই কমিশন হতে। মুক্তিযুদ্ধেও দীর্ঘ নয় মাস জনাব সাইদ অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থন আদায়ে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখেন।
 মুজিব সৈনিক সাইদুর রহমান ১৯২৪ সালের আগস্ট মাসে নোয়াখালী জেলার লক্ষীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ৫ই এপ্রিল তার এই অন্তর্ধান দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত শোকময় ও অনাকাঙ্খিত বটে। আমরা স্বাধীনতার এই মহান ব্যক্তিত্বের আত্নার মাগফেরাত কামনা করি।
 পাকিস্তান পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও ২৬শে মার্চ ১৯৭১ সনে বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণার পরমূহুর্তে জনাব সাইদুর রহমান স্বেচ্ছায় কোলকাতা হাইকোর্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থন প্রদান এবং শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি আনুগত্যতা পত্রের ঘোষণা দেন। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে সর্বপ্রথম কূটনৈতিক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে এতে বিদেশে মিশনগুলোতে কর্মরত বাঙ্গালী অফিসারবৃন্দ ও কর্মচারীগণ অনুপ্রাণীত হন এবং ন্বতঃস্কূর্তভাবে আন্দোলনে যোগদান করেন।

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ