সোমবার , ১১ জুন e ২০১৮

ডেস্ক রিপোর্ট:
 বাংলাদেশঅর্থৈ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এর পক্ষ থেকে সভাপতি জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের উপর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাতীয়
সংসদে এই নিয়ে ১২ বার জাতীয় বাজেট উত্থাপন করার এক বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন- এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।
এসময় বাজেটের আকার বেড়েছে। বেড়েছে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। দারিদ্রতা কমেছে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। আজ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে ও অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
প্লাস্টিকের তৈজসপত্র এবং আহরিত বর্জ্য থেকে রি-সাইক্লিং করে দানা উৎপাদনকারী প্লাস্টিকের প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা, ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামের প্লাস্টিক ও রাবারের হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর থেকে মূসক অব্যাহতি দেওয়ায়, প্লাস্টিক খাতের মৌলিক কাঁচামাল কোটেড ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এর শুল্ক ২৫% থেকে নামিয়ে ৫% করা হয়েছে- শিল্প ও ভোক্তাবান্ধব সরকারের এই পদক্ষেপকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। সরকারি এই পদক্ষেপে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে, এতে  নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হবে।
প্লাস্টিক খাতের বেশকিছু তৈরি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ৪৫% করা হয়েছে, স্থানীয় ঔষধ শিল্পের প্যাকেজিং প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত কাঁচামালের শুল্ক তৈরি পণ্যের আমদানির উপর ধার্য্যকৃত সমহারে ৫% এ নামিয়ে না এনে ১৫% এ বহাল রাখা হয়েছে, যা শুল্কনীতির পরিপন্থী, ফিলার ও মাস্টারব্যাচ প্লাস্টিক খাতের মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ৫% ও ১০% হতে বৃদ্ধি করে ১৫% করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্থ হবে। আমরা এগুলো পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।
প্রস্তাবিত বাজেটে সকল ধরেণের প্লাস্টিক ব্যাগ (ওভেন প্লাস্টিক ব্যাগ সহ) ও মোড়ক সামগ্রীর উপর নতুন ভাবে ৫% সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিকাশমান
প্লাস্টিক খাত ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমে যাবে। অন্যদিকে সকল ধরণের শিল্প প্রতিষ্ঠানে মোড়ক সামগ্রী (র‌্যাপিং) অত্যাবশ্যকীয়। ৫% শুল্ক আরোপের ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে, ফলে মোড়কীকরণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সাধারণ ভোক্তাগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় এনে ৫% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার অনুরোধ করছি।
প্লাস্টিক শিল্পের মূলধনী যন্ত্রের অন্যান্য শিল্প খাতের ন্যায় রেয়াতি হারে আমদানি শুল্ক, মূসক, সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতির এস আর ও (ঝজঙ) তে অন্তর্ভূক্ত না করায় শিল্পায়ন প্রক্রিয়া দারুনভাবে  বিঘ্নিত হচ্ছে। রপ্তানীখাতে উৎসে কর ০.৭০ থেকে ১% এ উন্নীত করা হয়েছে। আমরা উৎসে কর ০.৫০% এ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।
সকল রপ্তানীখাতে করপোরেট কর হার সমতায়ন না করে বিদ্যমান বৈষম্য বহাল রাখা হয়েছে যা কর নীতির পরিপন্থী। আমরা সকল রপ্তানি খাতের করপোরেট কর হার সমান ১০% হারে ধার্য্য করার প্রস্তাব করছি। ঘোষিত বাজেট বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করতে সহায়ক হবে বলে বিপিজিএমইএ মনে করে। তবে এ চ্যালেঞ্জিং বাজেট
বাস্তবায়নে সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ