মঙ্গলবার , ২৫ জুন e ২০১৯ |

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় এবার প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। জামাত শুরু হয় সকাল ১০ টায়। জামাতে ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। মোনাজাতে তিনি মুসলিম উম্মার কল্যাণ ও শান্তি কামনা করে দোয়া করেন। 
ভোর হওয়ার সাথে সাথে দলে দলে মুসুল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুরো ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। ঈদগাহে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি পাশের সড়ক ও খালি জায়গায় নামাজ আদায় করেন। ঐতিহাসিক এ মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে পুলিশ সুপার মাসরুকুর রহমান খালেদ শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর ঘোষণা দেন। এর আগে শোলাকিয়া মাঠের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল দেশ ও বিদেশ থেকে আগত মুসুল্লিদেরকে স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা করেন।
শোলাকিয়া ঈদজামাতের নিরাপত্তায় নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় সাড়ে ১১ শ পুলিশ সদস্য ছাড়াও দুই প্লাটুন র‌্যাব ও পাঁচ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করে। তাছাড়া এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে ড্রোন। পুরোমাঠ ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ঈদগাহে মাঠে দুটি ড্রোন উড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন চেকপোস্টে মুসল্লিদেরকে তল্লাশি করে আর্চওয়ের ভিতর দিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করানো হয়।
কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মাসরুকুর রহমান খালেদ জানান, চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক হাজারের অধিক সদস্য মাঠের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। এছাড়া এই প্রথম শোলাকিয়া মাঠ ও আশপাশ এলাকার গতিবিধি নজরদারির জন্যে দুটি ড্রোন মাঠে উড়ছিল। শান্তিপুর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 
ঈদজামাত শেষে জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি সভাপতি সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে শোলাকিয়া ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে ঈদের দিন শোলাকিয়ার কাছে জঙ্গি হামলায় দুজন পুলিশ সদস্য, স্থানীয় এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হয়েছিল। সে কারণেই নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান। 

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ