মঙ্গলবার , ১২ সেপ্টেম্বর ber ২০১৭

অভিবাসন কোটা লইয়া তুলকালাম ইউরোপে

  মঙ্গলবার , ১২ সেপ্টেম্বর ber ২০১৭

নানা দেশ হইতে ইউরোপে ঢুকিয়া পড়া লোকজনকে গ্রহণ করিবার বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে কড়া আপত্তি জানাইয়াছে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ানভুক্ত (ইইউ) কয়েকটি দেশ। ইহা ছাড়াও গোটা মহাদেশ জুড়িয়াই সাধারণ লোকজনের মধ্যে বহিরাগতদের গ্রহণ করিবার আইনি বাধ্যবাধকতা বিরোধিতার আলামত টের পাওয়া যাইতেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল হইতে শুরু করিয়া এই পর্যন্ত ইইউ দেশগুলিতে পৌনে দুই মিলিয়নের মতো মানুষ অবৈধভাবে প্রবেশ করিয়াছে। ইহাদের বড় একটি অংশ সিরিয়া, ইরাক, ইরিত্রিয়া বা আফগানিস্তানের মতো মানবসৃষ্ট দুর্যোগের দেশ হইতে জীবন বাঁচাইতে ইউরোপে আসিয়া হাজির হইয়াছে। এই সমস্ত লোকজনের বাহিরে বিশেষ করিয়া আফ্রিকার কিছু দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়া হইতে বহু মানুষ অর্থনৈতিক আয়-উন্নতির বাসনায় জীবনবাজি রাখিয়া অবৈধ পন্থায় সমুদ্র ও স্থলপথে ইউরোপে ঢুকিতেছে।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুপ্রবেশকারীদের লইয়া মহাদেশের রাজনীতি টালমাটাল হইয়া উঠিলে ইইউ দেশগুলি সর্বমোট এক লক্ষ ৬০ হাজার প্রবেশকারীকে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করিয়া লইবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ইইউ গৃহীত উপর্যুক্ত সিদ্ধান্তটি ইতালি ও গ্রিসের মতো বিপুলসংখ্যক অবৈধ প্রবেশকারী দ্বারা বিব্রত দেশের জন্য স্বস্তিকর হইলেও, অন্য অনেক দেশ একেবারেই মানিয়া লইতে পারে নাই। এই কারণে এখন অবধি ২৮ হাজারেরও কম সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীর জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসের সংস্থান করা সম্ভব হইয়াছে। ঘটনা এইখানে শেষ নহে। পূর্ব ইউরোপের হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, রুমানিয়া ও পোল্যান্ডের মতো দেশ, অর্থনীতির উপরে চাপ, ভিনদেশী দ্বারা সমরূপ সমাজে ভাঙনের আশঙ্কা ও শরণার্থী-অভিবাসীর আবডালে সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা গড়িয়া উঠিবার আতঙ্ককে সামনে আনিয়া ইইউ-এর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করিতেছে। ইইউ-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটির মধ্যেও খুঁত বাহির করিয়াছে এই দেশগুলি। উল্লেখ্য, ইইউ-এর সিদ্ধান্তটি গৃহীত হইয়াছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনের ভিত্তিতে। কিন্তু ইইউ-এর আইনানুসারে কোনো সদস্য দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জড়িত না থাকিলেই কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি প্রয়োগ করা যায়। আলোচ্য দেশগুলি মনে করিতেছে যে, বাধ্যতামূলক অবৈধ অভিবাসী গ্রহণের সিদ্ধান্তটি সার্বভৌমত্বের সঙ্গে যুক্ত বিধায়, এই ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি প্রয়োগ করিয়া কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বাধ্য করা যাইবে না।

দিন কয়েক পূর্বে ইইউ-এর সর্বোচ্চ আদালত দ্য ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস বাধ্যতামূলকভাবে অবৈধ অভিবাসী গ্রহণের পক্ষাবলম্বন করিয়া বিরোধিতাকারী দেশগুলির কঠোর সমালোচনা করিয়াছে। ইইউ-এর সিদ্ধান্ত মান্য করিবার জন্যও আদেশ জারি করিয়াছে আদালত। কিন্তু আদালতের এই অবস্থান সত্ত্বেও ইউরোপে অবৈধ প্রবেশকারীদের ব্যাপারে খুব একটা পরিবর্তন আসিবে বলিয়া মনে হয় না। মহাদেশ জুড়িয়া সমপ্রতি পরিচালিত এক জরিপে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তরদাতা অবৈধ প্রবেশকারীদের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করিয়াছে। পরিস্থিতি অনুকূল দেখিয়া ইউরোপের দেশে-দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদীরা আবার নূতন করিয়া মাঠে নামিবার পাঁয়তারাও শুরু করিয়াছে।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ