বৃহস্পতিবার , ২৮ জুন e ২০১৮

মো ইনসান সাগরেদ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে পাথর পূর্বের লোডিংএর টাকা ফেরত এবং পরবর্তিতে লোডিং এর দাবীতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পাথর আমদানীকারকরা । বুধবার দুপুর থেকে সন্ধা পর্যন্ত এই কর্মসূচী পালন করে আমদানীকারকরা । প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন গত ১৪ মে থেকে হঠাৎ করেই বন্দর কতৃপক্ষ  পণ্য আমদানীতে প্রতি টনে লোড বাবদ ৫২ টাকা এবং আনলোড বাবদ ৫২ টাকা নির্ধারন করে । তাই ব্যবসায়ীদের পোর্টচার্জ এবং ভ্যাট সহ ১২০ টাকা অতিরিক্ত প্রদান করতে হয় । কিন্তু পন্য লোড আনলোডের  নামে এই টাকা নেয়া হলেও কতৃপক্ষ  শুধুমাত্র পন্য আনলোড করে দেয়। গত এক মাসে কয়েকদফায় পন্য লোড করে দেয়ার আবেদন জানালেও পোর্ট ইজারাদার কোম্পানী বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড আমদানিকারকদেরকে পণ্য লোডের সেবা দেয়নি । ফলে আমদানীকারকদেরকে পন্য লোডিং এর পেছনে আলাদা আরও  টাকা দিতে হয়েছে । এতে  বিপূল পরিমান লোকশান গুণতে হচ্ছে পাথর আমদানীকারকদের । গত শনিবার ব্যবসায়ী,শ্রমিক এবং সিএন্ড এফের নেতারা বৈঠক করে ইতোমধ্যে নেয়া গত একমাসের লোডিং চার্জ এর প্রায় এককোটি টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডকে তিনদিনের সময় বেধে দেয় আমদানীকারকরা। বুধবার বেধে দেয়া সময় শেষ হয়।  আমদানীকারকরা লোডিং এর টাকা ফেরত চাইতে গেলে ল্যান্ডপোর্ট লিমিেিটডের কোন কর্মকর্তাকে না পেয়ে  বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। কর্মসূচীতে কয়েকশ আমদানীকারক অংশ নেয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা পূর্বের  লোডিংএর টাকা ফেরত না দিলে এবং পরবর্তিতে পন্য লোডিং এর বন্দোবস্ত না করলে আমদানী কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনে নামার ঘোষনা দেন । সেই সাথে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ইজারা বাতিল করে অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো সরকার কতৃক এই স্থলবন্দর নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করার দাবীও তুলেছে আমদানীকারকরা । বর্তমানে স্থলবন্দরটিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে । পাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে । ফলে সরকার প্রতিদিন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানীকারক এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন  কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি  ও আমদানীকারক আব্দুল লথিফ তারিন, তেঁতুলীয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আমদানীকারক কাজী আনিছ, আমদানি রপ্তানীকারক এসাসিশনের সাধারন সম্পাদক গোলাম আযম,তেঁতুলিয়া উপজেলা সভাপতি ও আমদানীকারক মোখলেছুর রহমান,  পঞ্চগড় চেম্বার কর্মাস এর পরিচালক হারুন অর রশিদ বাবু, আমদানী রপ্তানীকারক এসোসিয়েশনের কোষাধক্ষ্য মোজাফ্ফর হোসেন, সিএন্ড এফ এসাসিয়েশনের আহ্বায়ক নাসিমুল হাসান নাসিম, যুগ্নআহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক নেতা আকতারুল হক ও আব্দুর রহমান প্রমুখ । এসময় বক্তারা আরও বলেন শ্রমিক হ্যান্ডলিংএর জন্য সদ্য চুক্তিবদ্ধ লালমনির হাটের মেসার্স আকিব ট্রেড ইন্টারন্যশনাল ( এটি আই) এবং স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বন্দরটি অচল করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে । 
এদিকে পন্য আমদানী কারকদের এই আন্দোলনের ফলে ভারত,নেপাল এবং ভ’টানের অর্ধশতাধিক ট্রাক আটকে পড়েছে  স্থলবন্দরটিতে । এসব ট্রাকের ড্রাইভার এবং হেলপাররা মানবেতর জীবন যাপন করছে । তারা জানিয়েছে তারা না খেয়ে না ঘুমিয়ে দিন পার করছে । কারন তাদের কাছে কোন টাকা নেই । ব্যবসায়ীরাও কোন খোঁজ রাখছেনা তাদের । অন্যদিকে বেকার হয়ে পড়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট সহ¯্রাধিক শ্রমিক । গত একমাসের অচলাবস্থায় তারাও মানবেতর জীবনযাপন করছে । 
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের কাওকে এসময় পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ম্যানেজার মামুন সোবহানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা  হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ