শনিবার , ৩০ জুন e ২০১৮

নিয়ামুল হক,কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৪ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত নয়টায় শহরের বক চত্বরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগীব রউফ চৌধুরীর বাসা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, নেতা-কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনার জন্য বিএনপি নেতার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে ২৩টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ সামনে রাগীব রউফের বাড়ি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস আর শিপন, যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেল প্রমুখ।
পুলিশ, দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত আটটার দিকে সদ্য গঠিত জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রাগীব রউফের বাড়িতে যান। এর কিছু সময় পর বাড়িটি পুলিশ ঘিরে ফেলে। পুলিশ বাড়ির ভেতর ও সামনে থেকে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের আটক করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় নেয়। এ সময় বাড়ির ভেতরে রাগীব রউফ ছিলেন।
রাগীব রউফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদ-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য নবগঠিত জেলা ছাত্রদলের কমিটির সদস্যরা এবং মিরপুর উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আমার বাসায় এসেছিলেন। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ তাঁদের আমার বাসা থেকে নিয়ে যায়।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নেতা-কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনার জন্য বিএনপি নেতার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছেনÑএমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের হেফাজতে থাকা একটি ব্যাগের ভেতর থেকে ২৩টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এতে রাগীব রউফ চৌধুরীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটাও তদন্ত করা হচ্ছে।
মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার বলেন, মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান বাদি হয়ে গভীর রাতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদি হয়েছেন তিনি (সঞ্জয়) নিজেই। বিকেলে আটককৃতদের আদালতে নেওয়া হবে। এবং রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
এদিকে এঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দীন নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
সোহরাব উদ্দীন বলেন, ‘ঘটনার পরপরই থানায় গিয়েছিলাম। ওসি কথা বলতে চাননি, খারাপ আচরণ করেছেন। কোনো কারণ ছাড়াই নেতা-কর্মীদের পুলিশ আটক করেছে, যা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না।

 আইন-শৃংখলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ