বুধবার , ০৪ July ২০১৮

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলায় বাহুকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (নায়েব) জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, হয়রানি আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এতে মধ্যে ভূক্তভোগীরা, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব),সহকারী কমিশনার সদর ও অন্যন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ প্রেরন করেছেন ।
আভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম এ অফিসে ২ অক্টোবার ২০১৬ তারিখে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই অফিসে বিভিন্ন কাজে আসা ভূমি মালিকরা যথাযথ কাগজপত্র ও দলিল উপস্থাপন করার পরও নানা অজুহাত ও ভুল-ত্রুটি দেখিয়ে ফাইল আটকে রেখে, পরে মোটা অঙ্কের টাকার মাধ্যমে কাজ করে দেন এ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম। 
বর্তমানে এই অফিস অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না জন গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি অফিসে।
এছাড়াও এই অফিসে ২০০-৫০০ টাকার বিনিময়ে খতিয়ান বিক্রির ব্যবসা করা হয়। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ নামজারি খারিজ কেসের প্রস্তাব প্রতিবেদন নিতে গেলে টাকা ছাড়া হয় না। খারিজের প্রতিবেদন ও সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন কায়দা করে হয়রানি করে এই কর্মকর্তা । ত্রুটিযুক্ত যেকোনো নামজারি ঘুষের টাকার পরিমাণ বাড়ালেই নামজারি করা যায় সহজে। 
ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকার সাধারণ মানুষ বাহুকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের কাছে নামজারি খারিজ কেসের প্রস্তাব প্রতিবেদন নেওয়ার জন্য গেলে ৫ শত ১ হাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেসে তিনি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়।
সাধারণ মানুষ তার কাছে টাকা ছাড়া গেলে বিভিন্ন কায়দা-কৌশল করে হয়রানি করে। আর টাকা দিলে নামজারি খারিজ কেসের প্রস্তাব প্রতিবেদনগুলো দেন। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না তহশীলদার জহুরুল ইসলাম ।
এখানে টাকা হলে সব হয়। টাকা না দিলেই এখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদেও বিভিন্ন বাহানায় হয়রানি করানো হয়। এছাড়া মোটা অংকের টাকা দিলেই নিজের পছন্দ মতো জমির খতিয়ান পাওয়া যায়।
এতে করে জমির  প্রকৃত মালিকরা পড়ছেন নানা জটিলতায়। একই জমির মালিক একাধিক ব্যক্তি বনে যাচ্ছেন টাকার বিনিময়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। টাকা না দিলেই বিভিন্ন অজুহাতে আজ নয় তো কাল করে দিন কাটায় আর হয়রানি করা হয় দিনের পর দিন। এখানে একই কাগজ একাধিক ব্যক্তির কাছে হস্তানন্তর করা হয় অর্থেও বিনিময়ে।
এবিষয়ে সদর উপজেলার বাহুকা  ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।
এব্যাপারে সদর উপজেলার (ভূমি) কমিশনার রিপন কুমার সাহা জানান, এই বিষয়ে অভিযোগের কপি এ পর্যন্ত আমার হাতে এসে পৌছায়নি। অভিযোগ এলে আমি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 পাঁচমিশালি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ