রবিবার , ০৮ July ২০১৮

মো. নুরউদ্দীন খান (সাগর), চট্টগ্রাম 
দেশের শীর্ষস্থানীয় রড উৎপাদনকারী শিল্প গ্রুপ কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (কেএসআরএম) একক সহযোগিতায় ডলু নদীর ভাঙন রোধের মধ্য দিয়ে গ্রামের বিশাল এলাকা রক্ষা পেয়েছে। এ উদ্যোগের কারণে দক্ষিণ গাটিয়া ডেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাঙ্গরমুখ বাজার, সড়ক ও এলাকার অসংখ্য বাড়িঘর রক্ষা পেয়েছে। সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবহমান ডলু নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘ গাইড ওয়াল স্থাপন করেছেন কেএসআরএম লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহজাহান। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতর এবং কর্তাব্যক্তিদের কাছে এ ব্যাপারে আবেদন-নিবেদন করেও প্রতিকার পাননি। তাই সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে কেএসআরএমের মালিক কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে ডলুর ভাঙন রোধ করেছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 
হাঙ্গরমুখ বাজারের ব্যবসায়ী আবদুছ ছাত্তার জানান, এলাকার ডলু নদীর ভাঙনের মুখে তলিয়ে গিয়ে পুরো বাজারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। মোহাম্মদ শাহজাহান বাঁধ দেয়ার পর বালি ভরাট করে তা উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবারো গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য দোকানপাট। মূলত আমরা এখন নতুন করে নির্মাণ করা ওইসব দোকানে ব্যবসা করছি।   
জানা যায়, কেএসআরএমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহজাহানের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গা। ওই গ্রামের পাশ দিয়েই প্রবহমান আগ্রাসী ডলু নদী। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডলুর ভাঙনের কবলে পড়ে অসংখ্য বাড়িঘর ও স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। এতে বাস্তুহারা হয় অনেক মানুষ। সেই ধারাবাহিকতায় বছরের পর বছর ভাঙনে পূর্ব গাটিয়া ডেঙ্গা গ্রামের একটি বিশাল অংশ ডলুর গর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়। কিন্তু সেখানে ভাঙন রোধে সরকারের কোনো উদ্যোগ ছিল না। এতে ওই এলাকায় ডলু নদী পাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করতেন। কেউ কেউ পূর্বপুরুষের ভিটাবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ ডলুর ভাঙন রোধের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দফতরে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। বারবার আশ^াসের বাণী শুনেই তাদেরকে নিবৃত্ত থাকতে হয়েছে বছরের পর বছর। 
এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের মাঠ, বাজার, সড়ক, ইবাদতখানা, অসংখ্য দোকান ও বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায় ডলুর গর্ভে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি অনুধাবন করে মোহাম্মদ শাহজাহান নিজ উদ্যোগ ডলুর ভাঙন রোধে উদ্যোগী হন। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগতভাবে ডলুর তীর ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেন তিনি। ভাঙন রোধে শুষ্ক মৌসুমে ডলুর তলদেশ খনন করে লোহার নেট বসানোর পর দেয়া হয় কংক্রিটের ঢালাই। এরপর সেখানে সিমেন্ট ও বালির মিশ্রণ তৈরি করে বড় বড় বস্তায় ভরে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করে গড়ে তোলা হয় চওড়া বাঁধ। পরে ওই বাঁধের ভেতরের অংশে ভরাট করা হয় বালি। এভাবে নদীর গর্ভ থেকে বিশাল এলাকা উদ্ধার ও ভাঙন ঠেকানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মোহাম্মদ শাহজাহান ব্যক্তিগত খাত থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রোধ করেন ডলুর ভাঙন। এতে পুরো গ্রামের বিশাল এলাকা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ তাদের পূর্ব-পুরুষের ভিটাবাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন। এভাবেই তিনি এলাকার কয়েক হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। রক্ষা করেছেন মাথাগোঁজার ঠাঁই। ভাঙন রোধে বাঁধ দেয়া ডলুর পাড় এখন এলাকার দৃষ্টিনন্দন বিনোদন স্পট হিসেবে পরিচিত। 
যোগাযোগ করা হলে কেএসআরএম লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার জাহান বলেন, কোনো দান প্রকাশ্যে করা ইসলাম সমর্থন করে না। আমরা সেই বিশ^াস থেকে সবসময় প্রচারবিমুখ ছিলাম এসব ক্ষেত্রে। আমরা যা কিছু করেছি বা করছি তা মানুষের কল্যাণে। তাদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের লক্ষ্য। লোক দেখানো কোনো সাহায্য আমরা কখনো করিনি। ডলু নদীর ভাঙন রোধে আমাদের যে কাজ, তা করেছি গ্রামের বিশাল এলাকাকে নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করে অসহায় মানুষের বসতবাড়ি রক্ষার জন্য। আমাদের সেই উদ্যোগ সফল হয়েছে। আমরা সেখানে শুধু ভাঙন রোধ করেই দায়িত্ব শেষ করিনি; তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও করা হয় আমাদের পক্ষ থেকে।
গ্রামে ডলুর ভাঙন রোধে কত টাকা ব্যয় হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে শাহরিয়ার জাহান বলেন, এসব কথা কাউকে জানানোর প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। আমরা যা করেছি মানবিক বিবেচনায় ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করেছি। সুতরাং টাকার অঙ্কটা অপ্রকাশিতই থাক।
কবির গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুল করিম বলেন, কেএসআরএম সব সময় দেশ ও মানুষের কল্যাণে পাশে ছিল, আগামীতেও থাকবে।

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ