সোমবার , ০৯ July ২০১৮

 মো. আসলাম উদ্দিন খাঁন :
সারা দেশের ন্যায় ঢাকার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রঙীন প্রজাতির টারকি মুরগী এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে দারুন চঞ্চল ও আদরপ্রিয় প্রানী টি এখন  নবাবগঞ্জ ও দোহারের পোল্ট্রি শিল্পে অধ্যায়ের সুচনা করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক খামারিরা ছোট পরিসরে শুরু করলেও অল্পদিনেই অভাবনীয় সাফল্যের মূখ দেখতে শুরু করেছেন।
উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা  খলিল মিয়া তার নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছেন । একটি টারকির খামার । শখের বশে মাত্র ৫০ হাজার  টাকার টারকি কিনে পালন শুরু করেন তিনি। বছর ঘুরতেই তিনি হয়ে ওঠেন এক বানিজ্যিক খামারি। ইতোমধ্যে তার খামারে স্থান পেয়েছে প্রচলিত অপ্রচলিত কয়েক জাতের টারকি। একই সঙ্গে গড়ে তুলেছেন তার নিজ বাড়িতে টারকি পালন ও বাজারজাত করনের একটি ছোট প্রতিষ্ঠান। এখন তার দেখাদেখি অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন টারকি পালনে। স্থানীয় ভাবে যারা ইতোমধ্যে ছোট খাটো খামারি হয়ে উঠেছেন তাদের সরকারি ভাবে সহযোগীতা করলে হয়তো ব্যাপক বিস্তার ঘটবে এর।
খামারি খলিল জানান, বছর কয়েক আগে টিভিতে দেখে শখের বসে টারকি নিয়ে এসে প্রতিপালন শুরু করেন তিনি। তা থেকে প্রায় এপর্যন্ত দু’লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। এর পর টারকি পালন লাভজনক হওয়ায় বানিজ্যিক ভাবে খামার শুরু করেন তিনি। বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দু’শত টারকি রয়েছে তার খামারে। ময়ূর আকৃতির এ টারকি প্রতিপালনে
অনেকেই আগ্রহী বলে তিনি জানিয়েছেন।  জানান, এক একটি টারকি মুরগি ২৫ থেকে ৩০ টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। আর এক জোড়া ডিম বিক্রি হয় ৪০০ শত টাকা দরে। এছারা ডিম ফুটিয়ে মাত্র ৫ দিনের বাচ্চা জোড়া প্রতি এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। তাছাড়া আলাদা ভাবে কোন খাবারের প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য দেশি পোল্ট্রি প্রজাতির মত স¦াভাবিক খাবারই খেয়ে থাকে এরা। তবে বেশি একটা পুঁজি না থাকায় ব্যাপক ভাবে খামার প্রস্তুত করতে পারছেন না তিনি। চাহিদা অনুযায়ী সবসময় টারকির ঘাটতি মেটানো যায় না। অনেক দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসেও খালি হাতে
ফিরে যায়। চালানের অভাবে বেশি একটা টারকি সংগ্রহে রাখতে পারছেন না তিনি। সরকারী ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ব্যাংক ঋন শোধ করেও বছরে কয়েক লক্ষ টাকা আয়
করা যেত বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, টারকি পাখির মাংস পুষ্টিকর এবং খুবই সুস্বাদু। টারকি জাতের প্রানী এদেশে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে লালন পালন করতে পারলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

 ফিচার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ