সোমবার , ০৯ July ২০১৮

মোংলা থেকে আকাশ ইসলাম  ঃ
 মোংলা বন্দরে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় প্রধান জ্বালানী তেল স্থাপনা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বানিজ্যিক জাহাজ সমূহের জ্বালানী তেলের সংকট নিয়ে চলমান বিড়ম্বনা দূর হবে। অপর দিকে দেশের জ্বালানী তেল সংকট মোকাবেলায় এ তেল স্থাপনা গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কাজ  ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে আর বাকী ৫ ভাগ কাজ খুব শিগগিরই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ প্রকল্পটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৭ বছর পর সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ স্থাপনায় মজুদ ও সংরক্ষন করা হবে সকল প্রকার জ্বালানী তেল। আর এখান থেকে দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযানে সরবরাহ করা হবে জ্বালানী তেল। এ ছাড়া দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ফিলিং ষ্টেশন গুলি পাবে জ্বালানী তেলের সুবিধা। 
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, শিপিং কোম্পানি ও শিপিং এজেন্ট সহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মহলের দাবীর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রেট্রেলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২০০৩ সালে মোংলা বন্দরে ২৫ একর জমি বরাদ্ধ নেয় । বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভূমি বরাদ্দ নেয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ পেট্রেলিয়াম করপোরেশন’র জায়গা ফাঁকা পড়ে থাকে। পরবর্তিতে শুধুমাত্র একটি সাইন বোড ঝুলিয়ে রাখা হয় এখানে। নানা জটিলতায় আটকে পড়ে এ প্রকল্পের কাজ। আর এতে হতাশা দেখা দেয় বন্দর ব্যবহারকারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সরকারের অগ্রধিকার প্রকল্পের আওতায় গুরুত্ব দেয়া হয় এ প্রকল্পটিকে। অনুমোদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ প্রেট্রেলিয়াম করপোরেশন ২০১৩ সালে  শুরু করে মোংলায় তেল মজুদ স্থাপনার  কাজ । মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন নামের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২শ’ কোটি টাকা। বিপিসির তত্বাবধায়নে এ প্রকলের অধিনে ১ লাখ মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি ট্যাংক, পাইপ লাইন ও পাম্প হাউজ,ফায়ার ফাইটিংস,অটোগেজিং, সাব স্টেশন সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মানের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া  দেশী-বিদেশী জাহাজসহ নৌযান  সমূহে সরাসরি জ্বালানী তেল সরবরাহের জন্য ডলফিন অয়েল জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কাজ  ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ প্রকল্পটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এখানে সংরক্ষন ও মজুদ করা হবে কেরসিন, মবিল, লুবঅয়েল, পেট্রোলসহ সকল প্রকার জ্বালানী তেল। 
নির্মাণাধীন এ জা¦ালানী তেল স্থাপনা প্রসঙ্গে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এইচ এম দুলাল জানান, এ বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৭ বছরেও জ্বালানী তেলের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জ্বালানী তেলের অভাবে অনেক বানিজ্যিক জাহাজ এ বন্দরে দিনের পর দিন আটকে থাকার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া মাদার ভ্যাসেলের জন্য চট্রগ্রাম বন্দর, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জ্বালানী তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। এতে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় তেমনি সময় অপচয় সহ নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। তাই নির্মানাধীন তেল স্থাপনাটি এ বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে বলে আশাবাদী তিনি। 
মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন (বিপিসি) প্রকল্প পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন জানান, দেশের দ্বিতীয় প্রধান এ জ্বালানী তেল স্থাপনা থেকে সর্বত্র সকল প্রকার জ্বালানী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নসহ জ্বালানী তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে মোংলা বন্দরে বানিজ্যিক জাহাজের আগমন ও কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।  
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান  কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান (বিএন) জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বানিজ্যিক জাহাজে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হবে। দূর হবে দীর্ঘদিনের চলমান ভোগান্তি। জ্বালানী তেলের অভাবে বানিজ্যিক জাহাজ সমূহকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সমস্যার সমাধান হবে এবং বিদেশীদের কাছে এ বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে। সকল প্রকার জ্বালানী তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে বন্দরে জাহাজের আগমন বৃদ্ধি ও আমদানী রপ্তানি পন্যের চাপ বৃদ্ধিসহ বাড়বে কাজের গতি।  

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ