বুধবার , ১১ July ২০১৮

মো: সাদের হোসেন বুলু  নবাবগঞ্জ (ঢাকা) থেকে:
রাজধানী ঢাকার পার্শবর্তী উপজেলা নবাবগঞ্জ ও দোহারে সরকারী সহায়তা পেলে কৃষি ও পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে পাল্টে যাবে এই অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র। 
স্থানীয়দের দাবী, উপজেলা দুটির অর্থনীতিতে কৃষির রয়েছে ব্যাপক অবদান। সারা বছর  কৃষকরা  উৎপাদন  করছেন নানা জাতের  ধান পাটসহ শাকসবজি এবং আদা, হলুদ,পেঁয়াজ, রশুন, মরিচ, ধনিয়া, সরিষা, তিল,  চাষের ব্যপক সম্ভাবনা আছে। এছাড়া বাঙ্গি, পেপে, কলা, কুল, বেল, লেবু, লিচু, আঁতাফল, আমড়া, জাম, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি অর্থকরী ফসল 
অন্যদিকে  দোহারের পদ্মার তীরবর্তি মৈনটঘাট ও মহাকবি কায়কোবাদের জন্মস্থান খ্যাত নবাবগঞ্জের আগলা ,কলাকোপা  ও বান্দুরা এলাকায় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায়  গড়ে উঠতে পারে পর্যটন  এলাকা। পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে  এই এলাকার জনসাধাণের অর্থনীতিক অবস্থার পরিবর্তন  হওয়ার প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে। 
 মৈনটঘাটকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে দোহার উপজেলার অর্থনীতির চিত্রও পাল্টে যেতে পারে। সৃজনশীল চিন্তাসহ সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তা করা সম্ভব।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়,  নবাবগঞ্জের কলাকোপায়  ও বান্দুরা এলাকায় জুড়ে রয়েছে নানা প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। যা দেশ বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে
তার মধ্যে অন্যতম নির্দশন খেলারাম দাতার বাড়ি, খেলারাম দাতার কোঠা বলেও পরিচিত। পেশায় ডাকাত হলেও ডাকাতি করা লুণ্ঠিত সম্পদ সাধারণ জনগণের মাঝে বিলিয়ে দিতেন বলে তাঁর এই নাম হয় খেলারাম দাতা । ধারণা করা হয় বাড়িটি পূর্বে ৪ ভবন ছিল যা ধীরে ধীরে মাটিতে দেবে গিয়ে বর্তমানে শুধু দোতলা রয়েছে। বাড়িটির ভিতরের কামরাগুলো খুবই ছোট এবং কিছুটা সুরঙ্গের মতো। বেশ কয়েকটি গম্বুজবিশিষ্ট এই বাড়ির ভিতরের পরিবেশ কিছুটা অন্ধকারাছন্ন। এর দেয়ালে রয়েছে অসম্ভব সুন্দর কিছু কারুকাজ যা বাড়িটির সৌন্দর্যবর্ধন করেছে। এই বাড়িটিতে প্রায় শুটিংস্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিছুদিন আগে ভবনটি সরকারী প্রত্মত্ববিভাগ সংস্কারের কাজ করে। জর্জবাড়ি কলাকোপায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী অনিন্দ্য সুন্দর  জমিদারবাড়ি’ ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকে নির্মাণ করেছেন স্থানীয় হিন্দু জমিদার সুদর্শন রায়। বাড়িটি বর্তমানে ’’জর্জবাড়ি’’ নামে পরিচিত। জজবাড়ির সামনের বিশাল প্রাঙ্গন রয়েছে হরেক ফুলের গাছ একপাশে আছে হরিণের ডেরাও।কলাকোপায় আরও দেখা যাবে ব্যবসায়ী রাধানাথ সাহার বাড়ি, লোকনাথ সাহার বাড়ি (মঠবাড়ি বা তেলিবাড়ি), মধু বাবুর পাইন্নাবাড়ি, পোদ্দারবাড়ি, কালীবাড়ি । এখানকার অনেক ভবনের নির্মাণশৈলীর সঙ্গে ব্রিটিশ আমলে তৈরি পুরান ঢাকার হিন্দু জমিদার বাড়িগুলোর মিল পাওয়া যায়।কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ি জজ বাড়ির পাশের ভগ্ন প্রায় বাড়িটির নাম কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ি। এই বাড়িটির সামনে একটি মন্দির আছে। বাড়িটির মতনই এর অবস্হা।  হবে আপনার ছায়া শিকার। কালের সাক্ষীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়ির প্রতিটি অংশ জুরে খেলা করছে আলো ছায়া। ২০০ বছরের ভগ্ন বাড়িটি হয়ত কোন অব্যাক্ত ইতিহাস নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সামনের ভাঙ্গা মন্দির ভিতরে মস্তক বিহিন একটা মুর্তি বসে আছে ভাঙ্গা বেদীর উপর। এক সময়ের সোনালী সময় এখন শুধুই অতীত। তেলেবাড়ির ( মঠবাড়ি) হিসেবেও পরিচিত। কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ির ডান দিকের চিকন পথ ধরে একটু সামনের দিকে এগুলেই হাতের বামে পরবে তেলেবাড়ি। ইছামতি নদীর কোল ঘেঁষে এই তেলেবাড়িটি এখন আনসার ও ভিডিপি ক্যাম্প। এই বাড়িতে এখন ২৯ আনসার ব্যাটালিয়ানের বসবাস। প্রচলিত আছে, এই বাড়ির মালিক লোকনাথ তেল বিক্রি করে ধনী হয়েছিলেন বলে তার নামে এর নাম।
গান্ধির মাঠ মাহাত্না গান্ধির অহিংস আন্দোলনের সাক্ষি এই মাঠ। গান্ধিজি বৃটিশ বিরোধি আন্দোলনের সময় এই অঞ্চলে এসেছিলেন এবং এখানে সভা করেছিলেন। সেই থেকে এই মাঠটির নাম গান্ধির মাঠ।
মহাকবি কায়কোবাদের জন্মস্থান নবাবগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ের জন্য বিখ্যাত তা হলো মহাকবি কায়কোবাদের জন্ম। কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৫ সালে তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নিখিল ভারত দ্বারা কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন ‘উপাধিতে ভূষিত হন। রয়েছে জপমালা রাণীর গীর্জা, বান্দুরা ভাঙ্গা মসজিদ, বান্দুরার হাসনাবাদ গীর্জা, সহজেই  সকলকে আকৃষ্ট করে। সরেজমিনে দেখা যায়, নবাবগঞ্জের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়  শিল্পপতি উদ্যোক্তরা এখন চিন্তা করছেন। গত  কয়েক বছরের বছরের ব্যবধানে কলাকোপায়  আধুনিক শিশুতোষ পার্ক গড়ে উঠেছে। আরো ১ টি পার্ক নির্মানের চেষ্টা চলছে বলেও জানা যায়। দোহারের জয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টিও কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড করম আলী বলেন, কৃষি ও প্রবাসী অধ্যুসিত নবাবগঞ্জ ও দোহারের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পাড়ে কৃষি ও পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে। এর জন্য স্থানীয় শিল্পপতি ও সরকারের সহযোগী প্রয়োজন নবাবগঞ্জের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন,এখন  অনেক স্থানীয় উদ্যোক্তা পর্যটন খাতে বিনিয়গে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। নবাবগঞ্জ ও দোহারের পর্যটন নির্ভর শিল্প বিকাশে স্থানীয় শিল্পপতিরা উদ্যোক্তরা এগিয়ে আসুক এটা আমরা সকলেই চাই। তবে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ। 
এখানকার জলবায়ু এবং মাটি নানা ধরনের কলকারখানাসহ, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উপযোগীসহ ও অনুকুল পরিবেশ রয়েছে। ফলে কৃষিভিত্তিক শিল্পকে হাতছানি দিচ্ছে দোহার ও নবাবগঞ্জ অঞ্চল। সড়ক পথে রাজধানীর গুলিস্থান থেকে নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর মাত্র ৩৩ কিলোমিটার ও দোহারের জয়পাড়া ৩৮ কিলোমিটার। যার ফলে সল্প ব্যয়ে নবাবগঞ্জ ও দোহার  উপজেলায়  কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে  রাজধানীসহ সারাদেশে বিপনণ করার বাড়তি সুবিধা রয়েছে এখানে। 
এই জনপদে যুগ যুগ ধরে হিন্দু. মোসলমান ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী  সমাজিক সৌজন্যতা বজায় রেখে বসবাস করছে। দেশের অন্য এলাকার মত এখানে ঘনবসতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যপকতা নেই। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছাসের ও ভয় নেই। এখানে মানুষ ও প্রকৃতির মাঝে নেই কোন বিরোধ। এই এলাকায় বিভিন্ন ফলের জুস কারখানা, মৎস্য শিল্প,  তুলাসহ কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনাময় একটি আর্দশ অঞ্চল।  

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ