রবিবার , ২৬ মে ২০১৯ |

আবু বকর সিদ্দিক (মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি): 
মানিকগঞ্জে আবাহমান কালের প্রমত্বা গাজি খালি নদী তার সকল ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ধলেশ্বরী শাখা নদী গাজি খালি মানিকগঞ্জ জেলায় সাটুরিয়ার গোপালপুর অববাহিকার সংযোগ হয়ে ঢাকা সাভার বংশী নদীতে গিয়ে মিশেছে । এক সময় খরশ্রোতা এই নদী দিয়ে দু-ঘন্টি পাল তুলে হাজার মুনের নৌকা ঢাকা সদরঘাঠ থেকে সাটুরিয়া নদীবন্দরে এসে নোঙর করত। সাটুরিয়া নদীবন্দরটি এই অঞ্চলের একমাত্র নদীবন্দর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ততকালীন সময়ে সাটুরিয়া নদীবন্দরে পন্য পার্শবর্তী থানা, মির্জাপুর, নাগরপুর, দৌলতপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের নিকট পৌছে দেওয়া হত। এভাবে গাজি খালি সাটুরিয়ার সাথে সেতু বন্ধন রক্ষায় ভূমিকা রাখত। আজ আর শোনা যায়না গাজী খালি নদীর কলকলানি। নেই সেই নদীবন্দর, শোনা যায়না জারি-সারি আর ভাটিয়ালি গান। দেখা যায়না দারবেধে যাওয়া মাঝিমাল্লা। দেখা যায়না গাংঙচিল, মাছরাঙার মত মাছ শিকারী পাখি। এগুলো এখন এখান কার মানুষের কাছে শুধুই অতিত। অতিত স্বৃতি চারণে প্রবিন ও বয়বৃদ্ধ এলাকার কয়েকজন জানান গাজি খালি আজ মৃত। তাদের ছেলেবেলায় নদীটির পারি ছিল প্রায় আধাকিলোমিটার। সাতারকেটে নদী পারহতে গিয়ে তারা ক্লান্ত হয়ে পরত। সাটুরিয়া নদীবন্দরে প্রতি বৃহঃস্পতিবার হাট বসত, হাটে প্রচুর লোকের সমাগম হত। নদী পারাপারে একমাত্র ব্যাবস্থা ছিল ঘাসি নৌকা। প্রায় হাটেই গাজি খালি নদীতে ¯্রােত ও ঢেউ এসে খেয়া নৌকা ডুবে হতাহত হত। এছাড়া সাটুরিয়া বন্দরের যাবতীয় বর্জ্য অপসারনে গাজি খালি নদীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সাটুরিয়া বন্দরের বর্জ্য অপসারনের তেমন কোন ব্যাবস্থা নেই। নদী ভরাট হয়ে যাওায় বর্জ্য পচে পানিতে মিশে পানি বিষাক্ত হচ্ছে যার ফলে মাছের প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে। ফলে এলাকার জন সাধারনের আমিষের ঘাটতি পূরনে ও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একসময় এই নদীর মাছ রুই, কাতল, বোয়াল গাজি খালি নদীর তিরবর্তী মানুষের নিকট এখন শুধুই রুপকথা। 
সরকার এর নদী রক্ষা নিতি মালার বাস্তবায়নে গাজি খালি নদীটির পূণঃখনন এবং অবৈধ দখল মুক্ত করা সময়ের দাবি হিসাবে দেখছে অভিঙ্গ মহল। গাজি খালি নদীর অবৈধ দখল মুক্ত করার বিষয়ে জন দাবী নিয়ে সাটুরিয়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখল মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলে জানান।     

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ