শনিবার , ১৪ July ২০১৮

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ড বাজারের সুলতান জেনারেলর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের এক চিকিৎসকের বাস চাপায় মৃত্যুর প্রতিবাদে চালককে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সহকর্মী, সতীর্থ ও কর্মচারীরা  স্থানীয় কুনিয়া এলাকায়  মানববন্ধন করে  ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন।

শনিবার সকালে প্রায় দেড় ঘন্টা ওই মহাসড়কে মহাসড়ক অবরোধের ফলে দীর্ঘ যাজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও দায়ি চালককে গ্রেপ্তার ও বিচারের ব্যবস্থা নেয়ার  প্রতিশ্রæতি দিলে অবরোধ তুলে নেন তারা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজার এলাকায় শাম্মীর সাকির প্রকাশ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ।
নিহত চিকিৎসক প্রকাশের সতীর্থ তায়রুন্নেছা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জরুরী বিভাগের জনি সূত্রধর জানান, ২০১৩সালে শাম্মীর তাদের কলেজ থেকে এমবিবিএস কোর্স শেষ করেন এবং ২০১৪সালে তিনি ইন্টর্নীশীপও শেষ করেন। সর্বশেষ তিনি পার্শবর্তী বোর্ড বাজারের সুলতান জেনারেলর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। এছাড়া তিনি জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকায় একটি চেম্বারে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করতেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি পাবনায়, তিনি উত্তরার ৬নম্বর সেক্টরে ভাড়া থাকতেন। স্ত্রী তানিয়া  একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ে লেখাপড়া করেন। তাদের ১১মাসের এক কণ্যা শিশু রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার চৌরাস্তা এলাকায় প্র্যাক্টিসশেষে মোটরসাইকেলে ককরে ঢাকার উত্তরার বাসার উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর সিটির বোর্ডবাজারের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তার মোবাইলে একটি কল আসে। পরে মহাসড়কের পাশে নিরাপদ দূরত্বে মোটর সাইকেলটি দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনটি রিসিভ করে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় বিআরসিটির একটি দ্বিতলবাস বাস অপর একটি বাসকে পাশ কাটাতে যেয়ে প্রকাশকে চাপা দিয়ে চলে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে এবং ঘাতক বাসের চালককে আটক ও নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে সরকারিভাবে সহয়তা প্রদানের দাবিতে কুনিয়া তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজের সামনে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সতীর্থ, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করেন।
এক পর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা সকাল ৯টার দিকে কলেজের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে এবং আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

গাজীপুরের ট্রাফিক বিভারে সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন আহম্মদ জানান, বাসটি সনাক্ত হয়েছে। পরে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে ও চালককে গ্রেপ্তারের আশ্বাসে সকাল সাড়ে ১০টা দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এসময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ