শনিবার , ১৪ July ২০১৮

মো. সাদের হোসেন বুলু দোহার থেকে

রাজধানী ঢাকার পাশর্^বর্তী দোহারের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি৩ লাখ ২১ হাজার জনসংখ্যার এই জনপদে মাত্র ১০জন চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা চালাচ্ছে। এরফলে প্রতিনিয়ত হাসপাতালটি নিজেই রোগী পরিনত হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে লোকজন সরকারি চিকিৎসাসেবা  থেকে।

স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ, মাত্র ১০ জন চিকিৎসক প্রান্তিকজনগোষ্টির এই বিশাল অঞ্চলে  চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যার্থ  সক্ষম নয়। তারপরও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন না এ্টা আমাদের বোধগম্য নয়।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দাবী,
পদ্মা নদীর ভাংঙন কবলিত আমাদের চরাঅঞ্চলে অসংখ্য দরিদ্র্য মানুষের বসবাস। যাদের সামর্থ নেই বেসরকারী ক্লিনিক বা হাসপাতালগুলোতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করার। তারাই আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করার জন্য। ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন এরমধ্যে ১জন গাইনী আর অন্যজন মেডিসিন বিভাগের। জরুরি সময়ে তাদের দেখা পাওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে হাসপাতালে কর্মরত অধিকাংশ চিকিৎসকগণ সময় ও সুযোগ পেলেই বেসরকারী ক্লিনিকে রোগী দেখতে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তারা।
হাসপালে চিকিৎসা নিতে আসা চরলটাখোলা গ্রামের এক নবাগত সন্তানের মা জানান, ১সপ্তাহ যাবত তার ছোট শিশুটির ঠান্ডাও কাশির সমস্যা। হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ  না থাকায়  অন্য চিকিসৎক দিয়ে তার শিশুকে দেখান। এখনো তার শিশু সুস্থ্য হয়নি। জনসাধারণ মানুষ এখানে এসে  সময় মতো ডাক্তার ও চিকিৎসা না পেলে তাদের চাকুরী করার কি দরকার। স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়া গেলে এ সকল চিকিৎসক ও হাসপাতাল  রেখে কি লাভ ? এমন প্রশ্ন তার  সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, সিনিয়র কোন নার্স নেই এই প্রতিষ্ঠানে। যারা আছেন তারা বেশীরভাগ সময় গাল গল্প ও ফেসবুকে সময় কাটায়। কেউ কিছু বললে তাদের কিছু যায় আসে না বলে ও জানান তিনি।
চর বিলাসপুর এলাকার ওহাব আলী  বলেন, সরকারী হাসপাতালে শুধ প্যারাসিটামল,হিস্টাসিনসহ ৪ থেকে ৫ রকমের  ঔষধ দেওয়া হয়। ভিটামিন ফাইল অথবা ক্যাপসুল গ্যাসটিকের ঔষধ সাপ্লাই না বলে জানায় হাসপাতালে লোকেরা।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট রয়েছে শুধু দোহারের নয়। কিছু দিন আগে ২১ জন চিকিৎসক অন্য জায়গায় পোষ্টিং হয়েছে। তারপর তুলনা মূলকভাবে এখানে ভালো চিকিৎসা হয়। ঔষধ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন , সাপ্লাই থাকলে আমাদের দিতে বাধা নেই।
ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল করিম বলেন সল্পসংখ্যক চিকিৎসকের বিষয়টি আমি অবগত আছি  সারা দেশেই চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। সরকারিভাবে চেষ্টা চলছে হয়ত দ্রæত সমাধান হবে।

 রাজধানী থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ