শনিবার , ১৪ July ২০১৮

নবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দূর্গ বলে পরিচিত নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগে এখন দুই নেতা।  উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের অধিকাংশের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব। নানা মুনির নানা পথ ও ‘মাই ম্যান’ সংস্কৃতির কবলে পড়ে  সাড়ে তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এমনি অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীদের।
নিজেদের বলয় ও পছন্দের লোককে কমিটির বিভিন্ন পদে নেওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত ঠান্ডা লড়াই চলছে অনেক দিন ধরে।  আর এসবের টানাপোড়ার  ত্যাগী নেতাকর্মীরা পদবঞ্চিত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবী অনুসারে, নবাবগঞ্জ উপজেলাটি আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক বলে দাবি করলেও নেতাদের সমন্বয়হীনতার কারণে ভোটের রাজনীতিতে তারা পিছিয়ে যাচ্ছে এই উপজেলায় আওয়ামীলীগ। ১৯৭৩সনের পর টানা ৩৫ বছর পর এই আসনটি আওয়ামীলীগের হাতছাড়া ছিলো। ২০০৮ সালের নিবার্চনে এই আসনে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী তৎকালিন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান বিজয়ী লাভ করলেও স্বজনপ্রীতি দলীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন ও হাইব্রিট নেতাকর্মীদেও প্রধান্য দেয়ার কারনে ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারির নিবার্চনে নৌকা প্রতীক নিয়েও  আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান খান যুগান্তর সম্পাদক সাবেক সর্বদলীয় সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের কাছে পরাজয় বরণ করেন। 
দলীয় সূত্রে জানা যায়,২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো. নাসিম ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের উপস্থিতে মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুকে সভাপতি ও মো. জালাল উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা করা হয়। দেখতে দেখতে সাড়ে তিন বছর  হতে চলেছে । তবু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নেই বলে হতাশ নবীন ও প্রবীণ নেতা কর্মীরা। তবে দলটির গঠনততেন্ত্র মেয়াদ রয়েছে তিন বছরের। কিন্তু কমিটি গঠনের আগেই মেয়াদ শেষ হওয়াতে দলের মধ্যে বিরাজ করছে স্থবিরতা। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকর্মী  জানিয়েছে, বিগত ইউপি নির্বাচনে ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এবং তৃর্ণমূলের মতামতকে পাশ কাটিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান  প্রার্থী করার অভিযোগে অধিকাংশ ইউনিয়নে দলের নেতা কর্মীরা দুইতিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। ফলে ইচ্ছে থাকলে এখন আর দলের মধ্যে ঐক্য ও চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না বলে জানান তারা। বান্দুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন,  দল ক্ষমতায় থাকার পরও উপজেলার কোন স্থানে এবার দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়নি। কারন হিসেবে তিনি বলেন সংগঠনের কার্যক্রমে গতিহীনতা ও বিভক্ত। উপজেলা সভাপতি ও সম্পাদকের বাহিরে  কারো কোন পদ পরিচয় না থাকায় অভিভাবকহীনতার কারনে এমনটি হচ্ছে বলে জানান তিনি। 
উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি  ও মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম মাষ্টার বলেন, জাতীর পিতার নির্দেশে  স্বাধীনতা যুদ্ধসহ আওয়ামীলীগের প্রতিটি গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। কিন্তু যখন দেখি বছরের পর বছর চলে গেলেও নবাবগঞ্জে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী পদবঞ্চিত তখন দুঃখ হয় ।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, অনুপ্রবেশকারী কেউ উপজেলা কমিটিতে প্রবেশ করতে পারবে না এটাই আমার লক্ষ্য ও চাওয়া ছিলো। কিন্তু একটি পক্ষ দলে অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে কথা বলে আসছে দীঘৃদিন ধরে। আমি যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের কথা বিবেচনা করতে চেয়েছি। জেলা কমিটিকে বিষয়টি বলেছি, ত্যাগী পদবঞ্চিতরা এখনো দলের প্রতি আনুগত্য আছে। নেতাদের ‘মাই ম্যান’ সংস্কৃতি থেকে আগে বের হয়ে আসতে হবে। দ্রæত কমিটির বিষয়টি সমাধান হবে বলে ও জানান তিনি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে আমার কোনো অবহেলা নেই। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও জেলা কমিটির সভাপতি,সাধারণ সম্পাদককের সাথে বিষয়টি নিয়ে অনেকবার কথা হয়েছে। হয়ত অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে ইনশাল্লাহ।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ