সোমবার , ২৩ July ২০১৮

মো.সাদের হোসেন বুলু, নবাবগঞ্জ: ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর সড়ক(জেডকে ডি) রাস্তার প্রশস্তকরণ কাজের অনিয়ম আর অবহেলার কারণে ফুঁসে উঠেছে নবাবগঞ্জবাসী। সঠিক পরিমান সিমেন্ট ব্যবহার না করেই বালু আর ইট বসিয়ে কাজ করায় রোববার বিকালে বিক্ষুদ্ধ জনতা রাস্তার দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে। কাজের মান খারাপ হওয়ার বিষয় এলাকাবাসী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাইটেক ও সওজ কর্মকর্তাদের দায়ী করেছে। 
এলাকাবাসীর দাবী অনুযায়ী, দোহার নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  রাস্তাটি নির্মানের জন্য প্রায় ৪শত ৬৯ কোটি টাকা একনেকের সভায় অনুমোদন করেন।তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় তিন মাস ধওে 
কাজটি চলমান রয়েছে।  যথা সময়ে কাজ শুরু করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা আর অনিয়মের কারণে কাজের অগ্রগতি নেই। বাজার ও নিচু এলাকা গুলোতে প্রথমে কাজ শুরু করলেও রাতের আধাঁরে নিম্মমানের ইট বালু, খোয়া, পাথর ও সিমেন্ট দিয়ে কোনো রকমে দায়সারা ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর আগে স্থানীয় সাংসদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সওজের মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সভা করে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ করার যে অঙ্গিকার করেছিলো তার কিছুই হচ্ছে না। একদিকে কাজ চলছে ঢিমতালে অন্যদিকে রাস্তা নির্মানে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্মমানের মালামাল। 
নবাবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তার দ’ুপাশে যে দেয়াল নির্মান করার কথা ছিলো তা বেইজ না কেটে শুধু পাকা রাস্তার উপর ইট বসিয়ে সামান্য সিমেন্ট দিয়ে বালু ঢেলে দেয়া হচ্ছে। ফলে জনগণের পায়ের চাপেই তা ধ্বসে পড়ছে। 
গতকাল নবাবগঞ্জ বাজার পয়েণ্টে শহীদ মিনারের সামনে ও নিমতলায় গিয়ে দেখা যায়, ইটা দিয়ে যে বেইজ তৈরী করেছে তা পা দিয়ে লাথি মেরেই ভেঙ্গে ফেলছে ক্ষুদ্ধ জনতা। এসব অনিয়মই শেষ কথা নয়, বিভিন্ন স্থানে রাস্তার যে পরিমান প্রশস্ত হওয়ার কথা ছিলো তা না করেই কাজ শেষ করা হচ্ছে। প্রভাবশালী লোকের বাসা ও দোকানের সামনে দিয়ে রাস্তাটি সোজা না করে বাঁকা করে কাজ করা হচ্ছে। এতে জনতা ও যানবাহনের চলাচলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। 
পরিবহন ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, প্রায় তিন মাসের বেশী সময় ধরে এ সড়কে কাজ চলছে। কাজের মান ভাল না করেই তারা কাজ করছে। আমরা যারা বাস পরিচালনা করি। আমরা আছি অনেক সমস্যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে যানজট কাটিয়ে ঢাকা যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবহন ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।  
 এদিকে ধীরগতিতে কাজ চলায় রাস্তার কয়েকটি স্থানে পানি জমে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যানসহ মানুষ চলাচলে বিঘœ ঘটছে। এদিকেও কোনো বাইপাস রাস্তা না করে কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাইটেক। বক্সনগর খালপাড়, বাগমারা বাজার ও নবাবগঞ্জে বর্তমানে কাজ চলমান আছে। এক পাশ দিয়ে ঢালাই কাজ শেষ হলে ও অন্য পাশে নেই কোনো প্রতিকার ব্যবস্থা। ফলে পানিতে ও গর্তে পড়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা। এদিকেও খেয়াল নেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির। 
প্রতিষ্ঠানটির তদারককারী প্রকৌশলী তুষার সরকার যুগান্তরকে বলেন, কাজের মান ঠিক রেখেই সব করা হচ্ছে। তবে এতা বড় ব্যস্ত সড়কে কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা হতে পারে। আমরা সব দেখে দ্রুত কাজটি সমাপ্ত করার চেষ্টা করবো। 
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জালাল উদ্দিন বলেন, সড়কটিতে নিম্মমানের কাজ হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সওজের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে রাতের অন্ধকারে দায়সারা গোছের কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঠিকাদার গুণগত মান বজায় না রেখেই কাজ করছে। তিনি কাজের মান বজায় রেখে দ্রুত তা শেষ করার দাবি জানান। 
সড়ক ও জনপথের মুন্সিগঞ্জ রেঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, সিডিউলের বাইরে কেউ কাজ করতে পারবে না। এমনটি হলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই আমরা ঠিকাদারকে সঠিক সময়ে ভালোভাবে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছি। তবে অনিয়ম বা অবহেলা করলে কেউ ছাড় পাবে না।  

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ