সোমবার , ২৩ July ২০১৮

গায়ের রং কালো বলে

  সোমবার , ২৩ July ২০১৮

কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা:
গায়ের রং কালো বলে মেরে ধরে সাবিনা নামে এক গৃহবধুকে তার সন্তানসহ তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধু সাবিনা আইনী সয়াহতা পেতে এখন বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিচ্ছেন। 
সাবিনা যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের ওবায়দুর রহমান জানান, ছয় বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। কালো বলে সাবিনার বিয়ের আগেই পিতা ওবায়দুর তার জামাইকে নগদ ১ লাখ টাকা দেন মেয়ের সুখের জন্য। তারপরেও বিয়ের পর থেকে সাবিনার শাশুড়ি জরিনার প্ররোচনায় তার স্বামী আলমগীর স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো।
 এ নিয়ে বেশ কয়েকবার শালিস বসানো হয়েছে গ্রামে। শালিসের মাধ্যমে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যেয়ে আবারো মারপিট করতো বলে জানান তিনি। তাকে রাখবেনা বলে গর্ভের একটি সন্তনও নষ্ট করতে বাধ্য করে স্বামী-শাশুড়ি। এরপর একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয় সাবিনার। তার বয়স ৩ বছর। একবিংশ শতাব্দিতে এধরণের বর্ণ বৈরীতা নিয়ে নির্যাতন ও ঘরছাড়া করাকে অপ্রত্যাশিত বলে জানান একই এলাকার সন্তান কলারোয়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আবু নসরসহ প্রায় সবাই। 
 এব্যাপারে সাবিনার স্বামী সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়ে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানিয়ে দেন। আর আলমগীরের মা জরিনা খাতুন বলেন, তার ছেলে (আলমগীর) তেমন কিছু বোঝে না। কিসে কী হয়েছে তিনি তা বলতে পারেন না। তবে তার ধারণা মনের ব্যাথায় আলমগীর তালাক দিয়ে থাকতে পারে। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই স্বামী ও শাশুড়ি মারপিট করে সাবিনাকে তাড়িয়ে দেয় বাড়ি থেকে। আইনী সয়াহতা পেতে সাবিনা এখন বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিচ্ছেন। 
সংশ্লিষ্ট চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি বলেন বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি যতদ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করবেন।
সাবিনার বাবার বাড়ীর পরিবার আইনি সহায়তা পেতে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
 

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ