সোমবার , ৩০ July ২০১৮

রংপুর সংবাদদাতা ॥ কর বৃদ্ধি ও নতুন কর আরোপ ছাড়াই চলতি অর্থবছরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ হাজার ৬’শ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা উপলক্ষে গতকাল রবিবার দুপুরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। 
১ হাজার ৬’শ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, এই বাজেটে প্রস্তাবিত রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫২ কোটি ৬০ লাখ ৫৯ হাজার ৪’শ ১১ টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ কোটি ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬’শ ১৩ টাকা। বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫’শ ৪৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ৫’শ ৮৯ কোটি টাকা। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫’শ ১৪ কোটি টাকা। উন্নয়ন খাতের মধ্যে অবকাঠামোখাতে সরকার প্রদত্ব উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী হিসেবে ২’শ শ ১০ কোটি টাকা, সরকার প্রদত্ব বিশেষ সহায়তাখাতে ২’শ কোটি টাকা, ডিপিপি-জিওবি খাতে ২’শ ১০ কোটি টাকা, এমজিএসপি-২ খাতে ৫০ কোটি টাকা, কাউন্সিলর অফিস নির্মান বাবদ ১৫ কোটি টাকা, সিজিপি জাইকার খাতে ১’শ ৫০ কোটি টাকা, শ্যামাসুন্দরী খাল উন্নয়নে ৬’শ কোটি, কে.ডি ক্যানেল উন্নয়নে ৪’শ কোটি, সোলার লাইট/জলবায়ু উন্নয়ন প্রকল্প/ইউনিসেফ প্রকল্পের খাতে ৪০ কোটি, বৈদেশিক সাহায্য পুষ্ঠ অন্যান্য প্রকল্প খাতে ১’শ ৩০ কোটি এবং মেরামত ও রক্ষনা-বেক্ষণ খাতে ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, এই বছরেই এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও জাপানি আর্থিক সহায়তায় রংপুর নগরীর বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, ব্রিজ ও কালভার্টসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
মেয়র বলেন, বিগত মেয়রের আমলে অবকাঠামো উন্নয়নে ঠিকাদারদের প্রকল্পের জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন ব্যাংক গ্যারান্টির কারনে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করতে পারছি না। অনেকেই অগ্রিম টাকা নিয়ে চলে গেছে কাজ করছে না। কাজ শুরু করলেও শেষ করছে না। দুটি ব্রীজ ভেঙ্গে রেখেছে কাজ করছে না। ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি টাকা কিছুদিন আগে আমরা পরিশোধ করেছি। হাইকোর্ট থেকে চাকরি বহাল করে নিয়ে আসা অনেককেই তাদের ৪ বছরের বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। সবমিলে একটি ভঙ্গুর সিটি কর্পোরেশন পেয়েছি আমি। সব কিছুকে ঠিকঠাক করে একটি মাস্টারপ্লানের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পিত নগরী প্রতিষ্ঠা করতে আমরা কাজ করছি। এজন্য রংপুর সিটি কর্পোরেশনবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। 
এ সময় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী আখতার হোসেন আজাদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ