মঙ্গলবার , ৩১ July ২০১৮

মাহবুবুল আলম, গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর প্রাইমারী গ্রাউন্ড স্টেশন সজীব ওয়াজেদ উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারটার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স সেন্টার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুর ও বেতবুনিয়ার উপকেন্দ্র দুটি উদ্বোধন করেন। 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্তহন। 
গাজীপুরস্থ তেলীপাড়া এলাকার গ্রাউন্ড স্টেশনটি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে নামকরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলী আজম, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল মামুন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, গাজীপুর জেলা পরিষেদর চেয়ারম্যান আখতারউজ্জামান, সিটি কর্পোরেশেনর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রাহাতুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  পরের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে এ কেন্দ্রর উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে বেতবুনিয়ার বেক-আপ গ্রাউন্ড স্টেশনটিও উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী উপগ্রহ কেন্দ্রর প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান রনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এ উপকেন্দ্র সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। 
গাজীপুরে সজীব ওয়াজেদ উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনকালে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে ১৪ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেগেছেন। সে পদাঙ্গ অনুসরণ করে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে সফল ভাবে উৎক্ষেপন করতে পেরেছি। 
মুজিব থেকে যাত্রা শুরু সজীবের কাছে আমারা পৌছেছি। আমি বিশ্বাস করি মহাকাশে আমরা পৌছে গেছি। বাংলাদেশের জনগণ এর সুফল ভোগ করবে। বাংলাদেশের জনগণ এর  সকল আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। জাতির পিতা ৭ই মার্চের ভাষনে যেকথা বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। তাই কেউ আমাদের আর দাবায়ে রাখতে পারবে না। 
এ প্রসঙ্গে গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের মিশন ইঞ্জিনিয়ার ও ম্যানেজার মোঃ মোনতাসিরুর রহমান জানান, মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এখন গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সংকেত দিচ্ছে ও নিচ্ছে। স্যাটেলাইটটি থেকে কাঙ্খিত সেবা পেতে এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সার্বক্ষণিক ওই স্যাটেলাইটটির গতিবিধি ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন প্রকার সমস্যা দেখা দেয়নি। এখান থেকে ট্র্যাকিং ও কন্ট্রোলিংয়ের কাজ হচ্ছে। ফুল সিস্টেমটিকে টেস্টিং করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল টেস্ট ও ট্র্যাকিংয়ের কাজ সফলভাবে সমাপ্তির পর যে কোন সময় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কমার্শিয়াল অপারেশনে (বানিজ্যিক কার্যক্রম) যাবে। 
স্যাটেলাইট অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ার নাসিরুজ্জামান রনি বলেন, এটা হলো কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট। এর গ্রাউন্ড স্টেশনে হিউজ সিস্টেম ইন্সস্টল করা হয়েছে। এখানে ভেতরে স্থাপিত আলাদা আলাদা ইকুইপমেন্ট ছাড়াও বাইরের পুরো সিস্টেমটিকে ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেস্ট করা হবে। বেতবুনিয়া এবং গাজীপুরে  গ্রাউন্ড স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে যত যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়েছে যেমন এন্টনা, নেটওয়ার্কিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ছোট ছোট ভাগ করে টেস্টিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশন ও এন্টেনা টেস্ট করা শেষ হয়ে গেছে। এগুলো এখন পারফেক্টলি ফাংশনাল। এখন গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে বিভিন্ন প্রসেসে স্যাটেলাইট  টেস্ট করা হচ্ছে।  বর্তমানে গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনে বাংলাদেশী ৩০জন ও ১০জনের মত ফ্রান্সের প্রকৌশলী সার্বক্ষণিক কাজ করছে। 
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ১২ মে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি হলো কমিউনিকেশন সাটেলাইট। টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে।
এছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্স প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। এটির অবস্থান প্রায় ৩৬হাজার কিলোমিটার উপরে। 
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুবিধাসমূহ 
বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালুর ফলে অনেকাংশেই কমে আসবে এ ব্যয়। একই সঙ্গে দেশের টাকা থেকে যাবে দেশেই। আয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।
এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও অন্যান্য দেশের কাছে সেবা ভাড়া দিতে পারবে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা যাবে।  

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ