মঙ্গলবার , ৩১ July ২০১৮

আখতারুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
কার্বন মিশ্রিত পলিব্যাগ সমগ্র চীনে আমে ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চীন সরকার। আম পলিব্যাগ  বড় ধরনের ত্রুটি বের হবার কারনে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি গবেষণা বিভাগে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেটাকে আমরা ফ্রুটব্যাগ হিসেবে চিনি ও জানি। 
ইতোমধ্যেই একই কারনে কৃষি সম্প্রসারণ ১৮ জন কৃষি বিজ্ঞানীকে পদোন্নতি দিলেও দুই জনের পদোন্নতি আটকিয়ে একই পদে বদলি করেছে, ভিন্ন স্থানে। একই সাথে পলি ব্যাগ সংক্রান্ত প্রায় কোটি টাকা তসরুপের দায়ে এক কৃষি বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে কৃষি গবেষণাগার বড় ধরনের তদন্তে নেমেছে।
পলি ব্যাগের উদ্ভাবক দেশ চীন ইতোমধ্যেই কার্বন মিশ্রিত পলিব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে পুরো দেশে। একই কারনে জাপানসহ ফিলিপাইন আম সংরক্ষনে কার্বন নিষিদ্ধ করে শুধু মাত্র সাদা ব্যাগ ব্যবহার করছে। বাংলাদেশেও নিষিদ্ধ এখন সময়ের দাবি। তা না হলে আম সংশ্লিষ্ট মানুষ লোকসানে পড়বে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে, এক জনৈক কৃষি বিজ্ঞানী চীন ও সদর গবেষণা করে এসে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে কার্বন মিশ্রিত পলি ব্যাগ ব্যবহার শুরু করে। পাশাপাশি প্রচারে নামে আম রফতানিতে পলি ব্যাগ ব্যবহারে দারুন ভাবে উপকৃত হবার গল্প। যার কারনে দেশের বৃহৎ আম উৎপাদনকারী এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী সহ উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিন অঞ্চল এবং পাহাড়ী এলাকা আম সংরক্ষনে পলিব্যাগ দারুন ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে যে সব আম চাষী আম রপ্তানীতে আগ্রহী তারা ঝুকে পড়ে কার্বন মিশ্রিত পলিব্যাগ ব্যবহারে। 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের পলি ব্যাগের কারখানা নির্মান করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি কারখানা এই ধরনের আম সংরক্ষনে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার পলিব্যাগ তৈরি করে থাকে। চড়ামূল্য দিয়ে চাষীরা এই ব্যাগ কিনে আম সংরক্ষন করে আসছে। 
কিন্তু হঠাৎ করে চীন কার্বন মিশ্রিত পলিব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে আম সংরক্ষনে। এই কার্বন মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটা আবিস্কারের পর পরই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে চীন। তারা এখন কার্বন ছাড়া সাদা পলিব্যাগ তৈরী করছে। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানে এখনও কার্বন মিশ্রিত পলি ব্যাগ বিক্রি ও বাজারজাত করনের মাধ্যমে আম সংরক্ষন করা হচ্ছে। একই কারনেই দেশের সর্ববৃহৎ হর্টিকালচার সেন্টার চাঁপাই নবাবগঞ্জের কল্যানপুর হর্টিকালচার সেন্টার কার্বন মিশ্রিত পরিব্যাগ ব্যবহার করছেনা। 
এই হর্টিকালচারের বিজ্ঞানী জোহরুল ইসলাম জানান, তারা এখন ঢাকা থেকে কার্বন ছাড়া সাদা পলিব্যাগ এনে ব্যবহার করছে। সেই সাথে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কার্বন মিশ্রিত পলিব্যাগ ব্যবহার না করার। ইতোমধ্যেই পৃথিবীর প্রায় ১৭টি দেশে কার্বন মিশ্রিত পলিব্যাগ ব্যবহার করা আম কিনছেনা ও নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।
ফ্রেডলি ফ্রট প্রডাকশান পেপার ব্যাগ মল্লিক সিড কোম্পনী, ঢাকা নির্মান করছে চীনের প্রযুক্তিতে কার্বন ছাড়া পলি ব্যাগ। এই ব্যাগ চীন থেকেও তারা আমদানি করেছে। যা কল্যানপুর হর্টিকালচার ব্যবহার করছে।
কৃষি গবেষণার জনৈক বিজ্ঞানী ব্যাপক হারে কার্বন মিশ্রিত পলি ব্যাগ ব্যবহারে কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা ভোগ করায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাকে চিহ্নিত করে তদন্তে নেমেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তার অভিমত এই ধরনের ভূল তথ্য দেয়া গবেষকের দেশেই থাকা উচিত নয়।
এবার তাই অধিকাংশ ব্যবসায়ী পলি ব্যাগ বা ফ্রুট ব্যাগ বাগানে ব্যবহার করা থেকে বিরত রয়েছে। যে সব বাগানি এখনও এর অপকারিতা সম্বন্ধে জানে না শুধু তারাই ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করেছে।
আম কৃষকদের নিয়ে পলি ব্যাগ বা ফ্রুট ব্যাগের কারণে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম নিয়ে কিছু করতে হলে অবশ্যই তা বিশেষ বিবেচনায় করাটাই  শ্রেয় বলে মনে করছেন সূধীমহল।

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ