মঙ্গলবার , ৩১ July ২০১৮

এম. নাজিম উদ্দিন, রাঙামাটিঃ
দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে দেশের মিঠা পানির মাছের অন্যতম উৎস রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের মাছ আহরণ শুরু হচ্ছে। এর ফলে হ্রদের মাছ আহরণ,বাজারজাতকরণ ও পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল লক্ষাধিক লোকজনের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
কাপ্তাই হ্রদে কার্প প্রজাতির মাছসহ অন্যান্য মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদে অবমুক্তকৃত পোনার সুষ্ঠু বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১ লা মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা  হয়।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট ও নদী উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী মোঃ বেলাল উদ্দিন জানান,চলতি মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধকালীন সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ মা মাছের ডিম ছাড়ার জন্য সহায়ক ছিল বিধায় হ্রদের প্রায় ৩৯ প্রজাতির দেশীয় মা মাছ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেরেছে। পাশাপাশি কার্প জাতীয় মাছের যে ৪টি প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ছিল তার মধ্যে মাইনী চ্যানেল ধেকে এ বছর স্বল্প পরিমাণে কার্প জাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,এ বছর কাপ্তাই হ্রদ থেকে আশানুরূপ মাছ আহরিত হবে। তবে কোন মতেই যাতে পোনা মাছ ধরা না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।
কাপ্তাই হ্রদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন, রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোঃ আসাদুজ্জামান চলতি মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে সবার সর্বাতœক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন,মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ নিরাপদ থাকায় এ বছর মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কাপ্তাই হ্রদের মাছের সেই ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসবে।
তিনি বলেন,২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে সংগঠিত ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মাছ পরিবহনও বন্ধ থাকে। তবে এতো কিছুর পরেও গত বছর মাছ ধরা মৌসুমে ১০ হাজার ১শত ২৩ মেট্টিক টন মাছ আহরিত হয়। মাছের রয়েলটি বাবদ ১৩ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে মাছ আহরণ এবং রয়েলটি আদায়ের উভয় ক্ষেত্রে এটি রেকর্ড স্থাপন করেছে।
আসাদুজ্জামান বলেন, মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে হ্রদে ২৭ মেট্টিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। আগামীতে করপোরেশনের নিজস্ব নার্সারীতে উৎপাদিত পোনা অবমুক্ত করা হবে।
সরকারের দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে চলতি মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে হ্রদের মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল ২০ হাজার জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে খাদ্যশস্য প্রদান করা হয়। 

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ