শনিবার , ১৮ আগষ্ট ২০১৮

শপথ নিলেন ইমরান খান

  শনিবার , ১৮ আগষ্ট ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক:
এক সময় বাইশ গজের আঙিনা কাঁপিয়েছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সংখ্যাটাও ২২ তম। ব্যাটে-বলে যে সাফল্য তুলে এনেছিলেন, পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই সাফল্য পাবেন কি না এ নিয়ে রয়েছে বিচিত্রি মতভেদ? তবে ইমরান খান বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবেন না বিষয়টি আগে থেকেই মতামত দিয়েছেনে বিশেষজ্ঞরা । শনিবার দেশের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথি। পরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ফার্স্ট লেডি বুশরা ইমরানকে অভিনন্দন জানান উপস্থিত অতিথিরা। 
শপথ অনুষ্ঠান সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও খানিকটা বিলম্বে ১০টার কিছু পরে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কালো শেরওয়ানি পরে ইসলামাদের প্রেসিডেন্ট ভবন ‘আইয়ান-ই সদরে’ হাজির হন নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
স্ত্রী বুশরা ইমরান আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মুখ মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার শপথ বাক্য পাঠ করেন ইমরান খান। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা করেন। সেখানে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অনার দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নাসিরুল মুল্ক, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার আসাদ কায়সার, সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাবেদ বাজওয়া, বিমান বাহিনী প্রধান মুজাহিদ আনওয়ার খান ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল জাফর মাহমুদ আব্বাসিসহ দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেখানে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার নভজ্যোত সিংহ সিধু। এ ছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন পাক-ক্রিকেটার রামিজ রাজা এবং ওয়াসিম আক্রম। বাইশ গজের আঙিনা থেকে বেরিয়ে সরাসরি এখন রাজনীতির আঙিনায়। 
১৯৯৬ সালের কথা। যখন তৈরি করেছিলেন নিজের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ক্রিকেটের ময়দানে তাঁর আক্রমণাত্মক ভূমিকা বিশ্বের কারও অজানা নয়। তবে সম্পূর্ণ একটা ভিন্ন আঙিনায় ঢুকেও তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিটা কিন্তু উধাও হয়ে যায়নি। গত ২২ বছর ধরে তিল তিল করে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। যতটা বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়ে। টানা বাইশ বছর ধরে নিরলস ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল অবশ্য শেষমেশ নিজের ঘরেই তুলে এনেছেন।
দেশকে সুনির্দিষ্ট পথে চালিত করা, দেশকে যাঁরা লুঠ করেছে তাঁদের বিচারের ব্যবস্থা করা— এমন বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান। তবে তাঁর মাথায় ‘তাজ’ ওঠার পথটাও কিন্তু মসৃণ ছিল ছিল না। নির্বাচনের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাস ধরা পড়েছিল তাঁর গলায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসে পিটিআই। শুক্রবারই পার্লামেন্টে হয়ে গিয়েছে আস্থা ভোট। ম্যাজিক ফিগার ছিল ১৭২। ছোট ছোট দলগুলিকে নিজের দলে টেনে নিয়ে ১৭৬ ভোট অর্জন করে সেই পরীক্ষাও পাশ করেছেন তিনি। যেখানে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শাহবাজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পেয়েছে মাত্র ৯৬ ভোট। ইমরানের এই জয় কিন্তু পাকিস্তানের চিরাচরিত ‘প্রথা’কে ভেঙে দিয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। কারণ এত দিন পর্যন্ত দেশের ক্ষমতা গিয়েছে হয় পিএমএল-এন-এর হাতে, অথবা বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র হাতে। কিন্তু ইমরান ক্ষমতায় এসে সেই চিরচারিত প্রথা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। এখন তাঁর খেলার মাঠ রাজনীতির আঙিনা।  চ্যালেঞ্জিং এই পর্বে তিনি কতটুকু সফল হবেন তা দেখা সময়ের ব্যাপার মাত্র।        

 সারাবিশ্ব থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ