রবিবার , ১৯ আগষ্ট ২০১৮

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে কালনা ফেরিটি প্রতিদিন সেচ দিয়ে চলছে,আবারো ডুবে যেতে পারে এই ঘাটে চলাচলকারী ৪ নম্বর ফেরীটি। ফেরীর তলদেশে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় এই আশংকা দেখা দিয়েছে। অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে ফেরীটি। ঘাটে আরেকটি ফেরী থাকলেও ইঞ্জিনের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছেনা। তাই প্রতিদিন ঝুকির মধ্যে পারাপার করানো হচ্ছে শত শত যানবাহন। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মধুমতি নদীর উপর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনার এই ফেরী ঘাটটি। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারশ’ যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। দীর্ঘ দিনের পুরাতন ফেরী হওয়ায় এটি চলাচলে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এই ফেরী ঘাট দিয়ে বেনাপোল স্থল বন্দর, যশোর, খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার বিশেষ করে পন্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও এ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। এখন ঈদের সময় বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে আসা গরু এই ফেরী দিয়ে পারাপার হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের দূরত্ব কম হওয়ায় যানবাহনের চাপ এ ঘাটে ব্যাপক। কালনা ফেরী ঘাটের ইজারাদার মঞ্জুর হাসান বলেছেন, এখানে যানবাহন পারাপারকারী ৪নম্বর ফেরীটির তলদেশসহ বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র দেখা দিয়েছে। দুই-তিন বার পারাপার করার পর সেচ দিয়ে আবার চালাতে হচ্ছে।ততক্ষনে ফেরী ঘাটের দুই পাড়ে জমে যায় শত শত যানবাহন।দ্রুত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে যে কোন সময় আবারও দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর ঘাটে বসে থাকা ১৬ নম্বর ফেরীটিতে নতুন করে বেশী শক্তির ইঞ্জিন বসানো না হলে যানবাহন পারাপার অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফেরীর ড্রাইভার খালাসিদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ২০০৪ সাল থেকে ০৪ নম্বর ফেরীটি এই ঘাটে চলছে। এর মধ্যে বডির কোন মেরামত করা হয়নি। এখন ফেরীটির তলদেশের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র ও উপরের অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৬ নম্বর ফেরীটি বন্ধ থাকায় ৪ নম্বরের উপর বেশী চাপ পড়ছে। ফলে ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী লোড দিতে হচ্ছে। সেচ দিয়ে ফেরী চালাতে হচ্ছে। দ্রুত ফেরীটি মেরামত করা না হলে আবারও যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারি ট্রাক ড্রাইভাররা জানান, কালনা ঘাটের ফেরী প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে। ঘাটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। দুইটা ফেরীর একটা প্রায়ই অকেজো থাকে। এই ঘাটে আগে একটা ফেরী ডুবে ছিল। নতুন একটা ফেরী দেয়া হয়েছে, কিন্তু ইঞ্জিন বসানো হয়নি। ফেরীর এই অবস্থার কারনে দুই পাড়ের অসংখ্য যানবাহনকে পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ গোপালগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী খঃ মোঃ শরিফুল আলম বলেন, একটি ফেরীতে ইঞ্জিনের সমস্যা আরেকটিতে কিছু সমস্যা আছে শুনেছি। বিষয়টি ফেরী ডিভিশনকে জানানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সমাধান হবে। ঈদের আর মাত্র ক’দিন বাকী, ঈদের সময় এই ফেরি দিয়ে যানবাহন যাতে সঠিক ভাবে চলাচল করে সাধারন যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে পারে তার ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষ আশু ব্যবস্থা নেবেন এমনটা প্রত্যশা যাত্রী সাধারনের।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ