রবিবার , ১৯ আগষ্ট ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার, ভাঙ্গা-ফরিদপুর:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিঃস্কৃত সাধারন সম্পাদক ফাইজুর রহমানের বিরুদ্ধে চাদাবাজির মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌরসদরের মাদানী নগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আহম্মদ মাসউর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাইদুর রহমান জানায়, মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের নিকট চাদা চাওয়ার অভিযোগে ফাইজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছে। মামলা নং-৩২। তিনি আরো বলেন  আসামী যেই হোক না কেন আইন তার গতিতেই চলবে এবং আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
এদিকে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিঃস্কৃত সম্পাদক ফাইজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সাথে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ, ভুমিদস্যু, মামলাবাজ ফাইজুর রহমানের গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।
মামলার বিবরনী সূত্রে ও মামলার বাদী মাদানীনগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আহম্মেদ মাসউর বলেন, গত ১৪ই আগস্ট সকালে মাদানীনগর মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজ চলাকালীন সময় জোরপূর্বক বাধা দিয়ে মাদ্রাসার কাজ বন্ধ করে দেয়। ফাইজুর রহমান এসময় উচ্চ স্বরে বলেন মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজ করতে হলে তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা চাদা দিতে হবে এবং আমাকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি করতে হবে। আমি তার দাবী অমান্য করায় প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিঃস্কৃত সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান ও তার সঙ্গীয় আসামী সাইদুল রহমান সহ পাঁচ/ছয় জন ব্যক্তি আমাকে মারধর সহ প্রাণনাসের হুমকি দেয়।
 তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিগত ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের আন্দোলনের সময় ভাঙ্গা বিশ্বরোড মোড়ে নওশের নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা খুন হয়। উক্ত মামলায় আমাকে প্রধান আসামী করে প্রায় অর্ধশতাধিক লোকের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে আওয়ামীলীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে বেশ কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের বাদ দিয়ে ভাঙ্গার নিরহ জনগনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। আমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হওয়ায় আমি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে উক্ত সুযোগে ফাইজুর রহমান আমার মাদানীনগর মাদ্রাসাটি জোর করে দখল করে এবং স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে মাদ্রাসা পরিচালনা করে। উক্ত ফাইজুর রহমান বিগত দিনে আওয়ামীলীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হয়েছে এবং নামে বেনামে জনগনের জমি জোরপূর্বক দখল করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। তার বিরুদ্ধে একাধীক অভিযোগ থাকায় এবং ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নির্দেশক্রমে উপজেলা আওয়ামীলীগ বর্ধিত সভা করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে অব্যাহতি প্রদান করেন। ফাইজুর রহমানের বিগত দিনের চরিত্র পুনরায় চরিতার্থ করার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আবারও আমার মাদ্রাসাটি দখল করার পায়তাড়ায় লিপ্ত আছেন এবং চাদাবাজির মামলার আসামী হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে যার কারনে আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি। 

 ক্রাইম নিউজ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ