রবিবার , ১৯ আগষ্ট ২০১৮

বছর বছর কমছে চামড়ার দাম

  রবিবার , ১৯ আগষ্ট ২০১৮

নিজাম সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম ব্যুরো:
ইউরোপিয় ইউনিয়নের দেশগুলোসহ পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে আমাদের দেশের পশুর কাঁচা চামড়া ও চামড়া জাতীয় দ্রব্য রপ্তানি করা হয়। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে কাঁচা চামড়াকে তৃতীয় শীর্ষ রপ্তানিপণ্য হিসেবে ধরা হয়। তবে সম্ভাবনাময় এ চামড়া শিল্প দিন দিন হুমকির মুখে পড়তে বসেছে। বছর বছর কমছে চামড়ার দাম। ব্যবসায়ীরা যেমন চামড়ার দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চামড়ার হকদার অসহায় ও গরীবরা। আর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়ে যাওয়াকেই চামড়ার দাম কমে যাওয়ার জন্য দায়ী করা হয়।
প্রতিবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে। নির্ধারিত চামড়ার দামের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে চামড়ার দাম ধারাবাহিকভাবে নিম্নগামী। 
২০১৩ সালে সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ছিলো ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। আর ঢাকার বাইরে তা ছিলো ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। সারাদেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ২০১৪ ঢাকায় প্রতি ফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৭০ তেকে ৭৫ টাকা দাম নির্ধারিত হয়। ঢাকার বাইরে এ দর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত মহিষের চামড়ার দাম ছিল ৩৫-৪০ ও খাসির ৩০-৩৫ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ছিল ২৫-৩০ টাকা। ২০১৫ সালে চামড়ার দাম আরও কমে যায়। ২০১৫ সালে ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া প্রতি বর্গফুট মহিষের লবণযুক্ত চামড়ার দর ৩৫-৪০ টাকা, খাসির চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা ও বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা। ২০১৬ সালে গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৫০ টাকা। খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ ও বকরির চামড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৭ সালে গরুর চামড়া ঢাকায় প্রতি বর্গফুট দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ থেকে ৫৫ ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। খাসির চামড়ার মূল্য সারাদেশে প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২২ ও বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 
সর্বশেষ চলতিবছরে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে এর দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর চামড়ার দাম কমেছে। ইসলামিক রীতি অনুযায়ী কোরবানির পশুর চামড়ার হকদার হন গরীব ও অসহায়রা। ফলে পক্ষান্তরে চামড়ার দাম কমায় ক্ষতিগ্রস্থ হন অসহায়রা।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিন দৈনিক দেশকালকে বলেন, গত কয়েকবছর ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমছে। তাছাড়া ক্যামিকেল ও লবনের দামও বেড়েছে। যার কারণে বাজারে চামড়ার দাম কমছে। দাম  কমাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন গরীবরা। মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তিনি বলেন, এবার চট্টগ্রামে লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। লবণ ছাড়া সেটা ২২ থেকে ২৫টার বেশি যাবে না। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা না বুঝে চামড়া কেনেন। এতে করে তারা ঠকেন।
মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমাদের এখানে যে গরুগুলো কোরবানি হয় সেগুলোর মধ্যে গ্রামের গরুগুলোর চামড়া হয় ১৬ থেকে ১৭ ফুট আর শহরে কোরবানি গরুর চামড়ার গড় আয়তন হয় ২০ থেকে ২২ ফুট। বড় চামড়াগুলো ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা আর ছোটগুলো ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অনেকে লবণযুক্ত চামড়ার দাম হিসেব করে লবণছাড়া চামড়া কিনে পেলেন।

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ