রবিবার , ১৯ আগষ্ট ২০১৮

ব্যবসায়িক অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ জনাব মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু। পিতৃভক্ত, খোলা মনের নিরহঙ্কারী এই শিল্পোদ্যোক্তা দৈনিক দেশকাল প্রতিনিধিকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, নি:স্বার্থভাবে আমার বাবা এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি চাইলে তখন এমপি. মন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি আদর্শগতভাবে যেহেতু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উনাকে এখানে ৪বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে উনি বেঁচে এসেছেন। উনি তার পরবর্তীতে যখন দেখলো যে, ব্গবন্ধু যখন মারা গেলেন তার দু বছর পর তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন চেয়ারম্যানের পদ থেকে। কারণ পরবর্তীতে যারা আসছেন তারা ওনার আদর্শের সাথে মিল ছিল না বা তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন নি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে উনি মান সম্মানে চলে আসেন। এরপরেও উনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন সমাজের মানুষের জন্য। আমার দাদা ছিলেন তখন। 
তিনি বলেন, আমার বাবা পাকিস্তান আমলের চাটার্ড একাউন্টেন্ট ছিলেন। আমাদের এলাকার একমাত্র চাটার্ড একাউন্টেন্ট ছিলেন তিনি। তখন আমাদের এলাকার স্বনামধন্য নজির আহমেদ চৌধুরী এ উপলক্ষে একটা মেজবান দিয়েছিলেন। তিনি রোর্ডস এন্ড হাইওয়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। দেশের দ্বিতীয় মৎস্য রপ্তানিকারক ছিলেন। এসব ব্যবসায়িক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আমিও সামাজিক দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করি। ১৯৮৪ সালে আমাদের এম এন গ্রুপ প্রতিষ্ঠা হয়। তখন থেকেই আমি আমার বাবার হাত ধরে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছি। ১৯৯৯ সালে আমার বাবা মারা যান। ২০০১ সালে আমি প্রথম বিজিএমইএর দায়িত্ব গ্রহণ করি। কিন্তু এর পাশাপাশি আমার বাবা আমাকে সামাজিক দায়িত্ব বলেন রাজনৈতিক কর্মকান্ড বলেন চট্টগ্রামের বর্তমানে সিনিয়র লিডার যারা আমার বাবাদের জুনিয়র কলিগ ছিলেন। মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো নেতারা আমার বাবা কাছে আসতেন, পরামর্শ নিতেন। একটা পর্যায়ে এসে বাবা আমাকে ওনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দলের স্বার্থে যখন যেটা করার দরকার সেকাজে সহযোগিতার জন্য। 
অন্যএক প্রসঙ্গে মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, বাবার প্রথম সন্তান হিসেবে ব্যবসার প্রসারে গুরু দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয়েছে আমাকে। ১৯৮৪ সালে আমাদের ফ্যাক্টরিতে ৪৫টি মেশিন দিয়ে শুরু। আমার বাবা যখন মারা যায় তখন ছিল ৫০০টি মেশিন। এখন আমাদের ফ্যাক্টরিতে দেড় হাজার মেশিন যুক্ত হয়েছে। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছি। আমার এলাকায় পোস্ট অফিস করেছি। বন্দর থেকে এখানে এর শাখা স্থানান্তর করি। এতে আমার এলাকার লোকজনের সময় এবং অর্থ দুটোরই সাশ্রয় হয়। এরপর একটা দাতব্য চিকিৎসালয় করলাম। মাত্র ১০ টাকা টোকেন মানি দিয়ে এখানে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়।  এখানে ডাক্তার নার্স সবই আছেন। আবার যারা দু:স্থ তাদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এলাকায় একটি এতিমখানা গড়ে দিয়েছি। এখানে যারা আছে তাদের খাওয়া ভরন পোষন আমার সন্তানেরা যেভাবে পাচ্ছে পুরোপুরি সেভাবেই দেয়া হচ্ছে।  
নির্বাচনে আসা নিয়ে মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, আমি কেন নির্বাচন করতে চাচ্ছি আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ১৯৮৪ সালে ব্যবসা করে আমি বর্তমানে যে অবস্থানে এসেছি সেখানে এখন আর ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই।আমার ছেলে আসছে এ বছরের শেষ দিকে মালয়েশিয়া থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে। ওকে ১ বছর হয়তো কোথাও ট্রেনিং করাবো। চাকরি করাবো। তারপর এখানে আমি তাকে ব্যবসায় যুক্ত করাবো। তারপর আমি আস্তে আস্তে আমার বাবা যেটা করছেন আমি আমার সামাজিক অবস্থানে চলে যাবো। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর প্রায় ১৮-১৯ বছরে  এ এলাকার অনেকগুলো মসজিদ, মাদ্রাসা গড়ে দিয়েছি, গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেছি। গত ২১ বছর ধরেই বলা যায় আমি এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ক তখন তো আমি নির্বাচন করার কথাও ভাবিনি। নি”স্বার্খখাবে বরে যাচ্ছি। আমার বয়স এখন ৫০-৫১ বছর। জীবনে আর চাওয়া পাওয়া কিছু নাই। শুধু চাওয়া পাওয়া একটাই-সমাজের জন্য, দেশের জন্য যদি কিছু একটা করতে পারি, মান সম্মানের সাথে যদি বাদ বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারি। আমাদের যুব সমাজ যেভাবে আজ বিপথগামী হচ্ছে সেখানে এদের যদি আমি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলেই আমার স্বার্থকতা। আমি তা পারবো। আমি আরো ৫০০ ছেলেমেয়েকে আমার এখানে প্রশিক্ষিত করে কর্মক্ষম করে তুলতে পারবো।  কিন্তু যদি আমাকে আরো ৫ হাজার ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে তা আমার ব্যক্তিগতভাবে সম্ভব নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার উসিলায় আমি যদি নমিনেশন পাই তবে আমার প্রথম কাজ হবে কর্মসংস্থান।  আমি পোশাক শিল্পে জড়িত। এখানে কাজ করে ৪৫ লাখ লোক। আমি যদি সরকারের সহযোগিতা পাই, আমরা জায়গা আছে তা আমি সরকারকে দেবো। আমি সেখানে প্রজেক্ট করবো। গার্মেন্টস করবো। এখানে আমার যেসব দক্ষ লোকজন আছে তাদের পাশাপাশি অদক্ষ লোকজনের সমন্বয়ে এই শিল্প গড়ে তুলবো। সরকারি সহযোগিতা পেলে বৃহৎ আকারে কর্মসংস্থান করা সম্ভব। 
                                   -------  সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন নুরুদ্দিন খান সাগর:

 সাক্ষাৎকার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ