সোমবার , ২০ আগষ্ট ২০১৮

রকি আহমেদ, শরীয়তপুর:
পদ্মা নদীর ডান তীর নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ বাজার সংলগ্ন হযরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতী (গাজী কালুর মেহমান খানা) নামে চারতলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়িটি পদ্মা নদীর গর্ভে চলে গেছে।
বিলাসবহুল বাড়িটিসহ একই সময় খান বাড়ি জামে মসজিদ ও মোহাম্মদ দিলু খার দোতলা পাকা বাড়িটিও নদী গর্ভে চলে গেছে।  শনিবার (১৮ আগস্ট) রাত সোয়া নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ঝুঁকিতে রয়েছে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মূলফৎগঞ্জ বাজারটি। তাই সরিয়ে নেয়া হচ্ছে সব ধরণের মালামাল। যে কোন সময় পদ্মা নদীর থাবায় পরতে পারে বাজার ও হাসপাতালটি। 
শুধু তাই নয় শনিবার দুপুরে নড়িয়া-মূলফৎগঞ্জ একমাত্র সড়কের নড়িয়া বাঁশতলা থেকে শুরু করে পূর্ব নড়িয়া মূলফৎগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পদ্মা নদীর গর্ভে চলে যায়।
শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় পদ্মায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দিন যত পার হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙন ততই তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙনে দিশেহারা মানুষগুলো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। তাই ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের কাছে দ্রুত বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গোলাম ফারুক বাবুল জানান, শনিবার দুপুরে ওই বাড়িটির ছবি মোবাইলে তুলেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় রাতে শুনতে পাই বিলাসবহুল বাড়িটি পদ্মা নদীর গর্বে চলে গেছে। এমনভাবে নদী গর্ভে চলে যেতে থাকলে বেশি দিন লাগবে না শরীয়তপুরের মানচিত্র থেকে নড়িয়া হারিয়ে যেতে।
নড়িয়া পৌরসভার বাসিন্দা ইলিয়াস মাহমুদ ফেসবুকের মাধ্যমে লিখেছেন,  মূলফৎগঞ্জ ফাযিল মাদরাসায় পড়াকালীন সময়ে বাড়ি থেকে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক ছিল নড়িয়া-মূলফৎগঞ্জ সড়কটি। বাস, অটো, রিকসায় চড়ে কিংবা নিজের সখের সাইকেলটি চালিয়ে প্রতিদিনই যাওয়া আসা করতে হতো। ফাঁকিবাজ স্টুডেন্ট হলেও কখনো ক্লাস কিংবা কোচিং মিস করতাম না। ষষ্ঠ থেকে দাখিল পরিক্ষা পর্যন্ত প্রায় ৫ বৎসরে অসংখ্যবার যাতায়াত করেছি এই রাস্তা দিয়ে। জীবনের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই রাস্তাটির সাথে। চিরচেনা সেই রাস্তাটি আগ্রাসী পদ্মার পেটে।
আসাদুজ্জামান জানান, নড়িয়া উপজেলার সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঘরবাড়ি, দোকান ঘর, গাছপালা, ফসলি জমি পদ্মা নদীর ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে। দেখার কেহ নেই। তাই খুব দ্রুত নড়িয়া উপজেলার অংশ পদ্মা নদীর ডান তীর বাঁধের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বাংলাদেশ সরকারের।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান,
ভাঙন শুরুর বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধে খুব শিগ্রিই বেড়ি বাঁধের কাজ শুরু করা হবে। 
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, বিলাসবহুল বাড়িটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে শুনে সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আগামি সেপ্টেম্বরের শেষ দিক অথবা অক্টোবরের প্রথম দিকে পদ্মা নদীর ডান তীর ভাঙন কবলিত এলাকা নড়িয়া-জাজিরা উপজেলার ৯ কিলোমিটারের বেড়ি বাঁধের কাজ শুরু করবে সরকার।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ