সোমবার , ২০ আগষ্ট ২০১৮

চট্টগ্রাম অফিস :
চট্টগ্রাম থেকেই শুরু হলো দেশের বহুল প্রত্যাশিত এলএনজি সরবরাহ। চট্টগ্রামের শিল্প কারখানা এবং বাসাবাড়িতে  গত ১৯ আগস্ট রোববার দুপুর থেকে এলএনজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। আনোয়ারার সিটি গেট স্টেশন (সিজিএস) হয়ে এলএনজি প্রবাহ চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহের প্রধান লাইনে প্রবেশ করছে বলে জানা কগেছে। প্রথম দিকে দৈনিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে দেয়া হচ্ছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের পর ক্রমান্বয়ে গ্যাসের পরিমাণ বাড়ানো হবে। 
গত ২৪ এপ্রিল এলএনজিবাহী দেশের প্রথম জাহাজ ‘এমটি এঙিলেন্স’ মহেশখালীর উপকুলে অবস্থান নেয়। জাহাজটিতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯শ’ ঘনমিটার (৬০ হাজার ৪৭ টন) গ্যাস রয়েছে। এই জাহাজটিই এলএনজি সরবরাহের ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আগামী ১৫ বছর এই জাহাজটি ওখানে অবস্থান করবে। পরবর্তীতে এলএনজি নিয়ে আসা অন্য জাহাজগুলো এই জাহাজটির পাশে অবস্থান নিয়ে গ্যাস সরবরাহ দিয়ে চলে যাবে। এমটি এঙিলেন্স ছাড়াও ছয়টি টাগ বোটও  মোতায়ন করা হয় মহেশখালীতে। অবশেষ গত ১৪ আগস্ট কমিশনিং করে বিশেষ ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। শুরুতে চাপ প্রত্যাশিত পর্যায়ে না যাওয়ায় চাপ বাড়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। গত রোববার আড়াইটা থেকে চট্টগ্রামের লাইনে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
মহেশখালী টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন অর্থাৎ এলএনজি থেকে গ্যাসে রূপান্তরের ক্ষমতা দৈনিক ৫শ’ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ঘনফুট। দেশে বর্তমানে দৈনিক ৩৬শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২৬৫০ থেকে ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। চট্টগ্রামে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রামে সরবরাহ হতো সর্বোচ্চ ২১৫ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এখন এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ায় গ্যাস সংকট স্থায়ীভাবে ঘুচবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সংকট কাটাতে সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বছর দুয়েক আগে। এরই অংশ হিসেবে মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ এবং ওখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়। তৈরি করা হয় প্রকল্প। মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করে এলএনজি প্রসেসিং করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা এবং ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ দেয়ার জন্য আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীর জিটিসিএলএর স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারার সিজিএস পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার এবং আনোয়ারা  থেকে সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট সিজিএস পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ করা হয়। 




 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ