রবিবার , ২৬ আগষ্ট ২০১৮

 সাকিবুজ্জামান সবুর, কাঠালিয়া, ঝালকাঠি:
বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য সেক্টরে অনেক অর্জন থাকলে এর ব্যতিক্রম ঝালকাঠির জেলার কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যুগযুগ ধরে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত এ উপজেলার দু‘লক্ষাধিক মানুষ। একজন মাত্র ডাক্তার দিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা। ১৫ চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তামনে কর্মরত আছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতাসহ দুইজন। ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান ও কর্মচারী সংকটে কারণে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসাপাতালের এখন বেহাল দশা। নাম সর্বস্ব চলছে এর কার্যক্রম। 
উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তৎকালীন সরকার ১৯৬৩ সনে কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়ায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপন করে। ২০১৫ সানে আরো ১৯ শয্যা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু পুরাতন ৩১শয্যা বিশিষ্ট ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন ১৯ শয্যা ভবনেই চলছে ৫০ শয্যা হাসাপাতালের সেবার কাজ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দু’টি সাব-সেন্টার ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ৪টিসহ মোট চিকিৎসকের পদ ১৫টি। উপজেলা স্বাস্থ্য  কর্মকতা ও একজন সহকারী সার্জন। কয়েক বছর যাবত শূন্য রয়েছে ১৩জন চিকিৎসকের পদ। মাঝে মধ্যে একাধিক ডাক্তার এখানে যোগদান করলেও তদবির করে দু’-এক মাসের ব্যবধানে অন্যত্র চলে যান। গত ১৪/০৭/১৮ তারিখ ডাঃ সফিকুল হাসান নামের এক সহকারী সার্জন এ হাসপাতালে যোগদান করে এবং এক মাসের মাথায় ১৪/০৮/১৮ তারিখ তিনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলী হয়েছেন। এখানে দীর্ঘ বছর ধরে (অলিখিত প্রথার মতো) এভাবেই চলছে ডাক্তারদের যোগদান ও বদলীর পালা। গাইনী ও ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দু’টি পদ হাসপাতাল শুরু থেকেই খালী।  দু’টি সাব-সেন্টার ও ৪টি ইউনিয়নের ৬জন চিকিৎসক পদও শূন্য কয়েক বছর ধরে। হাসপাতালের সবচেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজী ল্যাব ও এক্সে মেশিন। গত ১০ বছর যাবত ২টি ল্যাব টেকনিশিয়ান ও এক্সে অপারেটর পদ শূন্য থাকায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এসব কার্যক্রম। ভূক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিক থেকে গলাকাটা খরচে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এছাড়াও যেতে হচ্ছে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ও বিভাগীয় শহর বরিশালে। এছাড়া  ১০ জন নার্সের ৪টি, ৩টি জন আয়ার ১টি এবং ৩টি ওর্য়াড বয় ও ২টি কুক/মার্শাল চীপ পদের সবগুলো শুন্য বহুদিন ধরে। একমাত্র চিকিৎসক ডাঃ নিশাত সাহিদাকে সামলাতে হচ্ছে জরুরী বিভাগ ও আবাসিকসহ অন্যান্য বিভাগের রোগীকে। 
হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে অসংখ্য রোগি চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন। একমাত্র ডাঃ নিশাত সাহিদা রোগী দেখছেন। অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে চলে যাচ্ছেন। 
ভূক্তভোগী রোগীরা জানায়, প্রতিদিন অসংখ্য রোগি এ হাসপাতালে আসেন কিন্তু ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যায়। 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তাপস কুমার তালুকদার জানান, আমি এবং একজন সহকারী সার্জন দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা খুবই কষ্টসাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসকের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার চাহিদা পাঠানো সত্ত্বেও কোন ফল হচ্ছে না।  
 

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ