রবিবার , ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ |

শেষ ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে ফদার রিগন’র

  বুধবার , ২৯ আগষ্ট ২০১৮

মোংলা থেকে আকাশ ইসলামঃ
জন্ম  ইতালিতে হলেও জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশে তাই মৃত্যুর পরও এর ব্যতিক্রম হতে দিতে চায়নি ফাদার মারিনো রিগন । লাল সবুজের বাংলাদেশে খুঁজে নিজেছিলেন তার আপন ঠিকানা । জীবনের অনেকটা সময় পার করেছে অসহায় মানুষের পাশে থেকে ।  
২০০১ সালে ফাদার রিগন হৃদরোগে আক্রান্ত হয় বাংলাদেশ প্রেমি ফাদার মারিনো রিগন । হৃদরোগে আক্রান্ত হবার খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ইতালি নিয়ে যেতে চান। তখন তিনি স্বজনদের শর্ত দিয়েছিলেন, ইতালিতে যদি মৃত্যু হয়, তবুও মরদেহ যেন বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
তাই শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী ফাদার মারিনো রিগনকে বাংলাদেশে সমাহিত করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর অথবা তার আগেই বাগেরহাটের মোংলায় সমাহিত করা হবে তাকে বলে জানিয়েছেন,ফাদার রিগনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এন্টনি ভাগ্য সরকার 
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সহযোগী, লেখক ও অনুবাদক ফাদার মারিনো রিগন ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ৯৩ বছর বয়সে জন্মস্থান ইতালির ভিল্লাভেরলা গ্রামে মারা যান। এরপর ২৪ অক্টোবর গ্রামেরই একটি ক্যাথলিক গির্জায় তার শেষকৃত্য হয়। এ সময় তার কফিন ঢেকে দেয়া হয়েছিল লাল-সবুজের পতাকায়।
এন্টনি ভাগ্য সরকার আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য রিগনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এবং নাগরিকত্ব দেয়া হয়। তিনি ইতালীয় পরিচয় রেখে বাংলাদেশি পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করতেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রিগন অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় এবং সেবা দেয়ার মধ্যদিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন। এ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।
ফাদার রিগন হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ফাদার রিগন এর দেওয়া শর্ত মেনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার স্বজনেরা তাকে ইতালি নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারের আগে স্বজনদের কাছে তার শেষ মিনতি ছিল, ‘আমার মৃত্যু হলে লাশটি বাংলাদেশে পাঠাবে।’
এন্টনি ভাগ্য সরকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরিবারের সদস্যরা মরদেহ সমাহিত নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ছিলেন। অবশেষে তারা রাজি হওয়ায় ফাদার রিগনকে বাংলাদেশে সমাহিত করা সম্ভব হচ্ছে।  

 তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ