রবিবার , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

র‌কি আহ‌মেদ শরীয়তপুর:
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন অব্যাহত। গত ক‌য়েক দিনের নদী ভাঙনে নড়িয়ার মূলফৎগঞ্জ বাজার এর দুই শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন। দিশেহারা পদ্মা পাঁড়ের মানুষ!
গত সোমবার দুপুরে থেকে বাজারের ব্যবসায়ী নূর হোসেন দেওয়ান এর একটি তিনতলা ভবন ও কেদার পুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মূলফৎগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন দেওয়ান এর আরো একটি তিনতলা ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেই সাথে বিলীন হ‌য়ে‌ছে, নূর হোসেন দেওয়ান এর আরও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেওয়ান ক্লিনিক।
এবছর নড়িয়ার ভয়াবহ নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের মতো।
অন্যদিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একেবারেই পদ্মা নদীর নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর মাত্র ৬ ফুট ভাঙলেই নদীগর্ভে চলে যাবে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে নড়িয়া মূলফৎগঞ্জ এর আঞ্চলিক শক্তির তিন কিলোমিটার নদীগর্ভে চলে গেছে। এখানকার নদী ভাঙ্গন মহামারী রূপ ধারণ করেছে। এত এত বেশি জায়গা নিয়ে ভাঙছে যে মানুষ বুঝতে পারতেছে না কখন কার বাড়ি কোন দিক দিয়ে ভেঙে যায় এবং ভাঙ্গনে প্রবণতা এতই বেশি যে ঘর দুয়ার সরানো সুযোগটুকু পাচ্ছে না এই ভাঙ্গন কবলিত এলাকার অসহায় মানুষ গুলো।
নড়িয়ার এই ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে একেবারে নিঃস্ব করে পথে নামে দিয়ে গেল মূলফৎগঞ্জ এলাকার দেওয়ান পরিবার,বাশতলা এ্যাড‌ভো‌কেট আবুল কালাম আজাদ ও শ‌হীদ ন‌া‌ছিমার বা‌ড়ি পূর্ব ন‌ড়িয়া খান পরিবার ও পূর্ব নড়িয়ার বেপারী পরিবার তথা দুই এমপির শ্বশুরবাড়ির লোকদেরকে।
এ বছরের ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে মূলফৎগঞ্জ এর দেওয়ান পরিবারের ইমাম হোসেন দেওয়ান ও নূর হোসেন দেওয়ান এর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উপরে আর্থিক ক্ষ‌তি হয়েছে।
অন্যদিকে মুন্নি খান পরিবারের প্রায় পাঁচশত কোটি টাকা ও স্থানীয় সাংসদ শওকত আলী এবং মাদারীপুরের সাংসদ লিটন চৌধুরীর শ্বশুরবাড়ির তিনশত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গতকালকে পর্যন্ত যারা ছিল এলাকার অন্যতম ধনী লোকদের মধ্যে কয়েকজন তারা আজ ভিটাবাড়ী সব হারিয়ে নিঃস্ব। আজ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নেই।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, এ পর্যন্ত নড়িয়ায় নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় চার হাজারের অধিক। এরা এখন অনেকটা মানবতার জীবন যাপন করছেন। এ পর্যন্ত আমরা তিন শত পরিবারকে শুকনো খাবার ও বিভিন্ন ধরনের সাহায্য করেছি। এছাড়াও আমরা আরো কিছু নদী ভাঙ্গা পরিবারের নতুন তালিকা করে ডিসি স্যার এর বরাবরে প্রেরণ করেছি। যাদের জায়গা জমি একেবারেই নেই অসহায় গরীব তাদেরকে চেষ্টা করতেছি যে খাস জমি দেয়ারর যাতে করে তারা ঘর-দুয়ার তুলে থাকতে পারে।এলাকা বা‌সির দা‌বি দ্রত ব্যা‌রিবা‌ধের কাজ না কর‌লে ঐতিহ্যবা‌হী ন‌ড়িয়া মান‌চিত্র থে‌কে হা‌রি‌য়ে যা‌বে প্রধান মন্ত্রী দেশ নেত্রীর কা‌ছে আকুল আবেদন, আমা‌দের ত্রা‌নের দরকার নেই বাধ নির্মান করা হউক

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ