রবিবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে ‘ভিন্ন গোত্রে’র এক তরুণীকে বিয়ে করায় দিনে দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে প্রণয় কুমার (২৩) নামে এক তরুণকে। শুক্রবার ওই রাজ্যের নালগোন্দা জেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ব্যক্তি ছয় মাস আগে ভিন্ন গোত্রের ওই তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। 

হায়দরাবাদ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিরইয়ালগুদা শহরে দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  ওই তরুণকে হত্যার ঘটনাটি ধরা পড়েছে নিকটস্থ একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে। এতে দেখা যায়, একটি হাসপাতাল থেকে প্রণয় তার স্ত্রী অম্রুতা বর্ষিণীকে (২১) নিয়ে বের হওয়ার সময় আকস্মিক পেছন থেকে এসে এক ব্যক্তি হামলা চালায় এবং প্রণয়কে কুপিয়ে হত্যা করে। এদিকে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ।
 
ফুটেজ ও পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গর্ভবতী বর্ষিণীকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় প্রণয়কে পেছন থেকে এসে ওই ব্যক্তি চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। তখন বর্ষিণী স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

বর্ষিণীর অভিযোগ, তার বাবা ও চাচারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। কারণ তারা পরিবারের মত ছাড়াই ভিন্ন গোত্রে বিয়ে করেছিল। 

নিজের পরিবার থেকে গর্ভপাতের জন্যও চাপ সইতে হচ্ছিল জানিয়ে বর্ষিণী বলেন, গর্ভপাতের কোনো ইচ্ছেই আমার ছিলো না। প্রণয়ের সন্তান আমার ভবিষ্যৎ। সে খুবই ভালো ছিল। সে আমার খুবই যত্ন করতো, বিশেষ করে গর্ভবতী হওয়ার পর। এই আধুনিক যুগে এসেও কেন জাত-বর্ণ-গোত্র এমনভাবে দেখা হয়, সে নিয়েও প্রশ্ন ছুড়ে দেন শোকাহত বর্ষিণী।

খবরে আরো বলা হয়, প্রণয় কুমার ও অম্রুতা বর্ষিণী আট মাস আগে বিয়ে করেন। তাদের কলেজ জীবন থেকে ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। জাত ভিন্ন হওয়ায় দু’জনের পরিবার তাদের বিয়েতে মত দিচ্ছিলো না, কিন্তু এ যুগল নিজেরাই বিয়ে করে ফেলেন।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর বর্ষিণীর বাবা ও চাচাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তার আগে থেকেই ওই অঞ্চলে ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও। 

এর আগে ২০১৬ সালের মার্চে তামিলনাডুতেও এমন একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেসময় ‘ভিন্ন গোত্রে’ বিয়ে করায় ২২ বছর বয়সী শঙ্কর নামে এক তরুণকে তার স্ত্রী কৌশল্যার সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ