সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮


বরিশালে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং সেন্টারের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বরিশালের সকল স্কুল প্রধানদের জেলা প্রশাসন কাছে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে। নোটিশের পরও কোচিং কিংবা প্রাইভেট টিউশন অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করা হবে। ১১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নোটিশের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। 

চিঠিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট স্কুলের কোন কোন শিক্ষক বাড়ি ভাড়া করে কোচিং ও প্রাইভেট টিউশন শুরু করেছেন। সকলের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের মেধার পূর্ণবিকাশ, সুস্থ মনন ও সৃজনশীল বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে ভবিষ্যতের সু-নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং বিদ্যালয়ের পাঠদান অধিকতর কার্যকর ও ফলপ্রসু করার জন্য প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বন্ধ করা আবশ্যক। 

এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকলে তাদেরকে ওইসব বিধি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত করার জন্য স্ব-স্ব স্কুল প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে। একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর ৪, ৫ ও ৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞাসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ প্রদান এবং ওই নীতিমালার ২ ও ৩ অনুচ্ছেদের বিধি-বিধান পালন পূর্বক স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক। এই নীতিমালা দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনে জড়িত শিক্ষকদের এমপিও বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করার হুশিয়ারি দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকের চিঠিতে। 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারী নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্রাইভেট টিউশন ও কোচিংয়ে জড়িত শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে। কয়েকদিন তাদের গতিবিধি নজরদারির পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। মানসম্মত শিক্ষাসহ কিশোর-কিশোরীদের মেধার পূর্ণবিকাশ, সুস্থ মনন ও সৃজনশীল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান

 শিক্ষা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ