বুধবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ |

এফএইচ আনসারী। বাংলাদেশের অসাধারণ একজন গুণী ব্যক্তিত্ব। একাধারে তিনি পরিবেশ বিজ্ঞানী, শিল্প গবেষক, শীর্ষ গ্রুপ কোম্পানি ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সর্বোপরি একজন নিরহংকারী সাদা মনের মানুষ। সিবা গেইগী দিয়ে শুরু করেছিলেন কর্মজীবন। দায়িত্ব কর্তব্যে নিষ্ঠবান জনাব আনসারী উচ্চতর শিক্ষা গবেষণা করেছেন পরিবেশ জলবায়ুর উপর এবং পিএইচডি অর্জন করেছেন সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজশাহীর কৃতি সন্তান ফা হ আনসারী ১৯৯৫ দিকে যুক্ত হন এসিআই গ্রুপে। দেশের অন্যতম এই শীর্ষ শিল্প গ্রুপ এসিআই' র সাফল্যের দোর গোড়ায় উন্নীত হবার পেছনে তাঁর রয়েছে সুদীর্ঘ কর্মপ্রচেষ্ঠা। জনাব আনসারী বর্তমানে এসিআই মটর্স লিমিটেড, এসিআই এগ্রো লিমিটেড, প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিকস লিমিটেড, এসিআই এগ্রি বিজনেস লিমিটেড প্রভৃতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। দীর্ঘ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা দক্ষতা, আভন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিজনেস কর্মকান্ডে তাঁর রয়েছে অসাধরণ পর্যবেক্ষণ। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন দেশের মটরসাইকেল শিল্পের চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ নিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে যাতায়াত যান হিসেবে বাইক অত্যন্ত সময়োপযোগি স্মার্ট বাহন। শহর গ্রাম সব এলাকায় এজন্য মটরসাইকেলের ব্যবহার ব্যপক হারে বেড়ে চলেছে। নিরাপদে স্থলপথে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌছাতে বাইক এখন সময়োপযোগি যানবাহন।
অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে ইয়ামাহা মটর সাইকেলের বৈধ ডিলার এবং আমদানিকারক। এক সময় এদেশে ইয়ামাহা বাইকে'র ব্যবহারকারী খুব বেশি না থাকলেও বর্তমানে এটি বাংলাদেশের অপ্রতিদ্বন্দী ব্রান্ড। আমাদের কয়েকটি সেরা পছন্দের মডেল রয়েছে এবং একাধীক  মডেল রয়েছে যার মাইলেজ প্রায় ৮০ কিঃমিঃ। তিনি বলেন, জনপ্রিয়তার কারণেই আন্ডা ইনভয়েস করে একটি শ্রেণী যন্ত্রাংশ এনে নিয়ম বহির্ভুতভাবে এসেম্বল করে এদেশের বাজারে তা বিক্রি করছে। আমরা এ বিষয়ে কোর্টের আইনগত সাপোর্ট পেপার বিআরটিএ'তে প্রেরণ করেছি। ঐসব বাইক আমাদের কাগজপত্র ছাড়া রেজিষ্ট্রেশন হবেনা বলে জানি। জনাব আনসারী বলেন, আন্ডার ইনভয়েস করে আনার কারণে শুধু সরকার রেভিনিউ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা নয়, গ্রাহকও নিম্নমানের বাইক হাতে পাচ্ছে। কেন না ইন্ডিয়াতেও নকল যন্ত্রাংশ রয়েছে যা এদেশে এনে এসেম্বল করে ব্যবহারের পর গ্রাহক তা থেকে ইয়ামার অরজিনাল সার্ভিসটি পায় না। অন্যদিকে যন্ত্রাংশ এখানে সংযোজন হয়ে যে গাড়ীটি রেডি হয় তার ক্ষুদ্র একটি ত্রুটিও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে। যা আমাদের আমদানি করা মটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সাধারণত হয় না। এধরনের অসাধু কর্মকান্ডের জন্য এই সেক্টরে একধরনের নেতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হলেও আমি মনে করি সরকারের সংশ্লিষ্ঠ বিভাগ আরো সময়োপযোগি নীতি গ্রহণ করে তা কমিয়ে আনবে। এছাড়া গ্রাহকদেরও সচেতন হওযা জরুরি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জনাব আনসারী বলেন, সরকার সময়ের প্রয়োজনেই এদেশে মটরসাইকেল ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে ওঠার উপযোগী নীতিমালা গ্রহণ করেছে। আমি মনে করি মটরসাইকেল শিল্প বিকাশে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর ফলে একসময় বাংলাদেশও এই পণ্যটি রফতানি করবে এবং স্বল্পমূল্যে এদেশের গ্রাহকরা বাইক কিনতে পারবে। এখন রেডি বাইক আমদানি ক্ষেত্রে শূল্ক প্রায় দেড়'শ শতাংশ এবং যন্ত্রাংশ আমদানিতে সে তুলনায় নামমাত্র শূল্ক থাকায় যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করা বাইক' র ব্যবহার বেড়ে গেছে। তবে আমার জানা মতে এখন এধরনের বাইকের নিবন্ধন বন্ধ আছে।
অন্যএক প্রশ্নের জবাবে জানান, কিছু ক্ষেত্রে এখন দেশি মটর সাইকেল বিপণন হতে দেখা যাচ্ছে। এটা একদিকে ভাল।  দেশে শিল্প গড়ে ঊঠুক আমিও চাই। তবে মেডইন বাংলাদেশ বাইক সংযোজন এবং মার্কেটিংয়ে যে নিয়ম রয়েছে তা আরো ইতিবাচক করা প্রয়োজন। তবে আমি মনে করি এটি অগ্রসরমাণ একটি শিল্প। এখানে নিয়ম সময়োপযোগি ধারায় থাকা জরুরি যাতে দেশে এবং রপতানি ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা যায়।
তিনি বলেন, এসিআই গ্রুপ তাদের ব্যবসার প্রতিটা পর্বে দেশের উন্নয়নের বিষয়কে অগ্রাধীকার দিয়ে থাকে। এজন্য আমরা কৃষি অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সবচেয়ে বড় বিজনেস কর্মকান্ড নির্বাহ করছি যা হয়তো অনেকেই যানে না। আমাদের গ্রুপের সিএসআর অবদান উল্লেখ করার মতো। মটর বাইক আমদানির সময়সীমা খুব বেশি দিনের না হলেও আমরা এই অল্প সময়ে যথেষ্ঠ সফলতা অর্জন করেছি। এই সেক্টরে আমাদের সর্বোচ্চ সাফল্যের উদ্যোগ রয়েছে। আমরা দেশের গ্রাহকদের কাছে ইয়ামাহা'র মতো বিশ্বের সেরা ব্রান্ডের মটরসাইকেল সরবারহ এবং বিক্রয় পরবর্তী সেবা দিতে পারছি। ব্যবহারকারীরা মুভমেন্টে আমাদের ব্রান্ড ইউজ করে সন্তষ্ট হওয়াকেই আমাদের সাফল্য মনে করি। পরবর্তীতে প্রতিযোগিতায় আমরা আরো কম দামে সেরা ব্রান্ডের অপ্রতিদ্বন্দী সেবা কিভাবে নিস্চিত করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করছি। 
গ্রন্থনা: জাকির এইচ. তালুকদার

 সাক্ষাৎকার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ