সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

নিজাম সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন নগরের লালখান বাজার থেকে হযরত শাহ আমানত (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলতি বছরেই শুরুর পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। কাজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। 
এ বিষয়ে কথা হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বিশ্বমানের যানজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ২০০৯ সালে বহুমুখি প্রকল্প নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মূল শহরে আসতে অনেক সময় লাগে। আগামী ৪/৫ বছরে বন্দরের কাজ ডাবল হয়ে যাবে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুমুখি প্রকল্প নেই। তিন বছর মেয়াদি ফ্লাইওভার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম কর্মচঞ্চল হবে, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়বে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি, এ সরকারের মেয়াদের মধ্যেই কাজ শুরু করার।
সূত্রমতে, ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টিকে উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করে মন্ত্রণালয়ের ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ প্রস্তাব পাঠানো হবে। ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পরেই সেটা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে যাবে। চলতি বছরেই এ প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিডিএ।
ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিস্তৃত এ ফ্লাইওভারটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে টেন্ডার আহবান করে সিডিএ। তাতে সাড়া দিয়ে মোট ২৪টি কোম্পানি টেন্ডার ফরম সংগ্রহ করে। কিন্তু মাত্র দশটি কোম্পানি টেন্ডার ফরম জমা দেয়।
জানা যায়, লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ করার জন্য সিডিএ আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে। গত ৩০ আগস্ট টেন্ডার ফরম জমা দেয়ার শেষ দিনে ১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের ফরম জমা দেয়। এর মধ্যে ৬টিই চীনের প্রতিষ্ঠান। বাকি ৪টি চীন-বাংলাদেশ যৌথ মালিকানার।
কোম্পানিগুলো হল: চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড, সিচুয়ান রোড এন্ড ব্রিজ কর্পোরেট লিমিটেড, আব্দুল মোনেম লিমিটেড, হেগো-তমা-মীর আকতার (জেভি), সিআরএফজি-এনডিই-জিকেবিপিএল (জেভি), শ্যানডং হাই-স্পিড জেভি উইথ শ্যানডং ওয়াটার কনসারভেন্সি, চায়না রেলওয়ে ২৫তম ব্যুরো গ্রুপ অব কোম্পানি লিমিটেড, চায়না হারভার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও ম্যাক্স নকিন (জেভি)।
এ দশটি কোম্পানি থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি কোম্পানির নাম একনেকে পাঠাবে সিডিএ। তারপর একনেকে পাস হলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মিত হলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। বিমানবন্দর থেকে মূল শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো দ্রত হবে। 

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ